১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ পুলিশ সহ ১৫ আহত টিয়ারশেল নিক্ষেপ

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।
 মঙ্গলবার সকাল ১১ টা উপজেলার বাউশিয়া  ইউনিয়নের দড়ি বাউশিয়া স্টান্ডের পাশে বাউশিয়ার গ্রামের হাজার  হাজার নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে গজারিয়া উপজেলার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।দুপুর ১ টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও তার পরপর বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা আন্দোলনে অংশ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে।
অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুপাশে গজারিয়া থেকে দাউদকান্দি এলাকা পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার বিভিন্ন যানবাহনে আটকা পড়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।দুর্ভোগে পরে হাজার হাজার যাত্রী।অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে বসে থাকা অভিনন্দন  স্বপন মুন্সী  জানান তারা ঢাকা থেকে তার স্বজনের লাশ নিয়ে বাড়ি যাবে কুমিল্লার মুরাদ নগর এলাকায়,বাসায় স্বজনদেন  আহাজারি আর তারা ২ ঘন্টা যাবত অবরোধে আটকা পরে আছে মহাসড়কে।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি,তাদের গ্যাস সংযোগ বৈধ।তবে হঠাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারী দিন পূর্ব কোনো নোটিশ ছাড়াই গজারিয়ার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।তবে একাধিক অবৈধ সংযোগ ছিল গজারিয়া জুড়ে।
জানা যায়, উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দড়ি বাউশিয়া এলাকায় সকাল ১১ তিতাস কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গেলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় এলাকাবাসী হাজার হাজার নারী পুরুষ অবরোধ করে।সে সময় বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এর শ্রমিক এ আন্দোলনে শরিক হলে আন্দোলন  আরো ত্বরান্বিত হয়।পরে ওই এলাকার সহ আশেপাশের  সাত গ্রামের নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। তৈরি হয় মহাসড়কে যানজটের।ঘটনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনা স্থলে পুলিশ টিয়াসেলগ্যাস,রাবার বুলেট, ফাঁকা গুলি চালায়।এতে আন্দোলনকারীদের পাল্টা আক্রমণের মুখে  ৬ জন পুলিশ সদস্য, সংবাদিক, নারী সহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান,গ্যাস কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন নেতা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বৈধ গ্যাস বলে সংযোগ দিয়েছেন তাঁদের। এখন অবৈধ সংযোগ বলে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। বিচ্ছিন্ন করা সংযোগ পুনরায় না দেওয়া হলে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন গজারিয়া উপজেলার ইউএনও কোহিনূর আক্তার, মুন্সিগঞ্জ সদর -গজারিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল,মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আল ফারুক সহ প্রশাসনের ছুটে আসেন।
পরে তাঁর নেতৃত্বে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব খান থানা-পুলিশের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেন।এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল বলেন, ‘অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা।৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রায় ১০০ টিয়াশেল বিক্ষোভ কারিদের নিকট ছোরে তাঁদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে জানান,গজারিয়ায় একাধিক এলাকায় বৈধ গ্যাস সংযোগের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ ও রয়েছে।তাদের দাবি বৈধ সংযোগ গুলো দেবার পাশাপাশি যাদের অবৈধ সংযোগ রয়েছে তাদের গুলো বৈধ করে দেবার জন্য।ফেব্রুয়ারী ২৫ তারিখের পর থেকে বৈধ এবং অবৈধ সকল সংযোগ বন্ধ করে দেয় তিতাস কর্তৃপক্ষ।এর’ই মাঝে গজারিয়ায় একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগন সংবাদ সম্মেলন করেছে তাদের প্রতিষ্ঠানের লাইন গুলো পূর্ণসংযোগ দেবার জন্য।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ পুলিশ সহ ১৫ আহত টিয়ারশেল নিক্ষেপ

আপডেট সময় : ০৭:২৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।
 মঙ্গলবার সকাল ১১ টা উপজেলার বাউশিয়া  ইউনিয়নের দড়ি বাউশিয়া স্টান্ডের পাশে বাউশিয়ার গ্রামের হাজার  হাজার নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে গজারিয়া উপজেলার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।দুপুর ১ টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও তার পরপর বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা আন্দোলনে অংশ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে।
অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুপাশে গজারিয়া থেকে দাউদকান্দি এলাকা পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দূরপাল্লার বিভিন্ন যানবাহনে আটকা পড়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।দুর্ভোগে পরে হাজার হাজার যাত্রী।অ্যাম্বুলেন্সে লাশ নিয়ে বসে থাকা অভিনন্দন  স্বপন মুন্সী  জানান তারা ঢাকা থেকে তার স্বজনের লাশ নিয়ে বাড়ি যাবে কুমিল্লার মুরাদ নগর এলাকায়,বাসায় স্বজনদেন  আহাজারি আর তারা ২ ঘন্টা যাবত অবরোধে আটকা পরে আছে মহাসড়কে।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি,তাদের গ্যাস সংযোগ বৈধ।তবে হঠাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারী দিন পূর্ব কোনো নোটিশ ছাড়াই গজারিয়ার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।তবে একাধিক অবৈধ সংযোগ ছিল গজারিয়া জুড়ে।
জানা যায়, উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দড়ি বাউশিয়া এলাকায় সকাল ১১ তিতাস কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গেলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় এলাকাবাসী হাজার হাজার নারী পুরুষ অবরোধ করে।সে সময় বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এর শ্রমিক এ আন্দোলনে শরিক হলে আন্দোলন  আরো ত্বরান্বিত হয়।পরে ওই এলাকার সহ আশেপাশের  সাত গ্রামের নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। তৈরি হয় মহাসড়কে যানজটের।ঘটনার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘটনা স্থলে পুলিশ টিয়াসেলগ্যাস,রাবার বুলেট, ফাঁকা গুলি চালায়।এতে আন্দোলনকারীদের পাল্টা আক্রমণের মুখে  ৬ জন পুলিশ সদস্য, সংবাদিক, নারী সহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান,গ্যাস কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন নেতা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বৈধ গ্যাস বলে সংযোগ দিয়েছেন তাঁদের। এখন অবৈধ সংযোগ বলে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। বিচ্ছিন্ন করা সংযোগ পুনরায় না দেওয়া হলে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন গজারিয়া উপজেলার ইউএনও কোহিনূর আক্তার, মুন্সিগঞ্জ সদর -গজারিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল,মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আল ফারুক সহ প্রশাসনের ছুটে আসেন।
পরে তাঁর নেতৃত্বে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব খান থানা-পুলিশের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেন।এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্দার খায়রুল বলেন, ‘অবৈধ গ্যাস-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা।৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রায় ১০০ টিয়াশেল বিক্ষোভ কারিদের নিকট ছোরে তাঁদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বললে জানান,গজারিয়ায় একাধিক এলাকায় বৈধ গ্যাস সংযোগের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ ও রয়েছে।তাদের দাবি বৈধ সংযোগ গুলো দেবার পাশাপাশি যাদের অবৈধ সংযোগ রয়েছে তাদের গুলো বৈধ করে দেবার জন্য।ফেব্রুয়ারী ২৫ তারিখের পর থেকে বৈধ এবং অবৈধ সকল সংযোগ বন্ধ করে দেয় তিতাস কর্তৃপক্ষ।এর’ই মাঝে গজারিয়ায় একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগন সংবাদ সম্মেলন করেছে তাদের প্রতিষ্ঠানের লাইন গুলো পূর্ণসংযোগ দেবার জন্য।