🟠 ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন, সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা
🟠 বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্দোলন বন্ধ করল চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোন আন্দোলন আর দেখা যায়নি, তবে সেখানে কর্মরতদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে, আন্দোলনরত একটি গ্রুপ জানিয়েছে উপাচার্যপন্থিরা চাইছেন কোনোভাবে সভা করে তার সময়ে দেয়া নিয়োগগুলো বৈধতা দিতে। অন্যদিকে, উপাচার্যের বিরোধীরা বলছেন, এটি কোনোভাবেই উপাচার্য করতে পারবেন না।
গতকাল রোববার বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে প্রশাসন। তারা সারা দিন সেখানে অবস্থান করেছে। মিছিল ও সভা-সমাবেশ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে বিএসএমএমইউর প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশ^বিদ্যালয়ের এক সূত্র জানায়, এদিকে, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে প্রায় দুই হাজার কর্মীকে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন। যারা নিয়োগপ্রাপ্ত তারা অপেক্ষা করছে এই উপাচার্যই যেন তাদের চাকরি স্থায়ী করে যায়। অন্যদিকে, এই নিয়োগ অবৈধভাবে হয়েছে উল্লেখ করে স্বাচিপ নেতারা এ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে।
আন্দোলনরত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)-এর নেতৃবৃন্দ বলছেন, তারা আশংকা করছেন উপাচার্য তার এডহক ভিত্তিতে দেয়া নিয়োগগুলো স্থায়ী করার জন্য সভা ডেকেছেন। তিনি এই সভা মূল ক্যাম্পাসের বাইরে করারও চেষ্টা করতে পারেন। তবে, উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে আর কোনো কিছু হবে না। কোনো মিটিং হবে না। কিচ্ছু হবে না। আমি রুটিন ওয়ার্কগুলো করে ২৮ তারিখ পর্যন্ত আমার অর্পিত দায়িত্বগুলো পালন করব।’
গত শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন আওয়ামী লীগপন্থি স্বাচিপ সংগঠনের শিক্ষকরা। এতে অংশ নেন কর্মকর্তা-কার্মচারীরাও। একপর্যায়ে উপাচার্যের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ডাক্তার মো. রাসেলকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে উপাচার্যের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিএসএমএমইউর সুপার স্পেশালাইজড শাখাতেও একজনকে মারধর করা হয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে, বিশ^বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম গত শনিবার বলেছিলেন, তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। গতকাল রোববার সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান মিয়া দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমি ছোট চাকরি করি। একটা বিষয় সবাইকে আশস্ত করতে চাই, আমি যেখানে দায়িত্বে আছি বিএসএমএমইউতে। এখানে কর্মচারী আছে যারা, ১৮-২০ বছর ধরে চাকরি করছেন। তাদের চাকরি স্থায়ী করেছেন ২০ বছর পর। তাদের কাছ থেকে আমাদের ভিসি স্যার, স্যারের প্রশাসনের কেউ একটা টাকাও নেননি। এখানে যারা দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছি তাদের অবস্থা। আর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। এটার সাথে আমাদের সম্পর্ক নেই। সবমিলিয়ে ৯৫০ জনের চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে। এরমধ্যে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ৮৮৫ জনের চাকরি স্থায়ী হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির মিলিয়ে ৯৫০ জনের চাকরি স্থায়ী হয়েছে। আমাদের আরো ২১১ জনের চাকরি স্থায়ী হতে বাকি আছে। এদের চাকরি শূন্যপদে স্থায়ীকরণ হয়ে যাবে।
বিএসএমএমইউয়ের এক সূত্র জানায়, এই উপাচার্যের শেষ সময়ে সিন্ডিকেট মিটিং হওয়ার সম্ভাবনা কম। কেননা, সিন্ডিকেট মিটিং ডাকতে হলে সাতদিন আগে সিন্ডিকেট মেম্বারদের নোটিস দিতে হয়। একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং করতে হয়। এরপর সিন্ডিকেট মিটিং হয়। তাই ধরে নিতে পারেন এই সময়ের মধ্যে এই উপাচার্য আর সিন্ডিকেট মিটিং করতে পারছেন না।












