০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুরুষতন্ত্রের এবং ধর্মীয় আধিপত্যবাদের কাছে পরাজিত হচ্ছে বাংলাদেশের নারী আন্দোলন: রোকেয়া কবীর

পর্ব – ৩

গায়ের রং কালো ছিল তাই বৈষম্যের শিকার হয়েছি

আমাদের পরিবারের মধ্যে, আমার আর ছোট ভাইয়ের গায়ের রং কালো ছিল। মাকে একজন বলছে, আপনার এই মাইয়ারে কিভাবে বিয়া দিবেন? তখন আমার মা বলল, না আমার মেয়ে নিয়ে কোন চিন্তা নাই। সে লেখাপড়ায় ভাল। সে নিজেরটা নিজে করে খেতে পারবে। এই কথাটা আমাকে মনে যে শক্তিটা দিয়েছে, নিজের মর্যাদা সম্পর্কে যে ধারণাটা দিয়েছে সেটা এখনও আমি বহন করছি। কারণ, আমি কালো এই কথা শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কারণ চাচার সঙ্গে যখন ঘুরতে যেতাম তখন এই কালো মেয়েটাকে কোথায় কুড়িয়ে পেলেন এমন কথা সবাই বলত। আমার বাবাকে কেউ এগুলো বলার সাহস পেত না, কারন তিনি রাশভারি মানুষ ছিলেন। কিন্তু চাচা সৈয়দ আহমেদ খান খুব নরম মানুষ ছিলেন। তিনি সুভাস চন্দ্র বোসের সঙ্গে বার্মায় ফোর্সে কাজ করেছেন।

ছোটবেলায় দেখেছি কমিউনিস্ট নেতারা আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকতেন, তখন মিটিং করতেন। তখন আমি কাউকে চিনতাম না। তাই নাম বলতে পারব না। নাইন- টেনে এ পড়ি তখনকার একটা ঘটনা মনে আছে। মনি সিং তখন আন্ডার গ্রাউন্ডে।  আমাদের বাড়িতে ঢোকার নেত্রকোণা শহর থেকে দুইটা পথ ছিল। মনি সিং ঢাকা থেকে মুভ আউট করেছেন এটা যখন হতো আমাদের বাড়ির দুই প্রবেশ পথে পুলিশ পাহারা বসত। এটা আমার মনে আছে।

কলেজে ছাত্র ইউনিয়ন করেছি। ৬৯ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। ছাত্র ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক হলাম। ৭১ এ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে প্রথম যে গ্রুপ যায় সেটাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলাম। প্রথম আর্মস ট্রেনিং নিই। ছাত্রীদের যে ব্রিগেড গঠন করা হয়। আমি সেটার কমান্ডার ছিলাম। ৩০ জানুয়ারি ৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর কাছে আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে তার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করি। কমিউনিস্ট পার্টির যে গোপন সেল ছিল রোকেয়া হলের সেটার আমি সেল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলাম। মিটিং মিছিলে মেয়েদের অর্গানাইজ করে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন সময়ে। মেয়েদের বিভিন্ন স্কুল কলেজে ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন শাখায় অর্গানাইজ করতাম। ট্রেড ইউনিয়নের বিভিন্ন কনফারেন্সে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা, তারপরে কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হতো সেখানে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা, যখন কৃষক সমিতির সারাদেশব্যাপী, তাদেরকে অভ্যর্থনা করা, তাদেরকে খাওয়ার ব্যবস্থা করা, রাত্রে বেলা স্টেশনের ফ্লোরে কম্বল বিছিয়ে আমি অন্যান্য ভলান্টিয়ারের সঙ্গে ছিলাম। বস্তিতে বস্তিতে গিয়ে মানুষকে সচেতন করা এই কাজগুলো করেছি। ছাত্র জীবনের এই কাজগুলোই আমাকে পরবর্তীতে কাজে অনুপ্রাণিত করেছে। এখন যে, সংগঠন করেছি। বিআইডিএস এ আমি একটা রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। আমি যখন সেকেন্ড ইযারে পড়ি।

ইয়াসমিন হত্যা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সুফিয়া কামালের  সান্নিধ্যে আসি

তার লেখা গল্প, কবিতা, বইতে পড়েছি। যখন কলেজে পড়ি। অনিল মুখার্জী একদিন জিজ্ঞেস করছিল যে মহিলাদের আন্দোলন বাড়ানোর জন্য আলাদা সংগঠন দরকার কিনা!  কারণ পার্টির একটা ব্যাপার ছিল বিভিন্নভাবে মতামত নিয়ে ডেমোক্রেটিক সেন্ট্রালিজম, মহিলা আন্দোলন, নারী মুক্তির আন্দোলন, এটার জন্য আলাদা সংগঠন করা যায় কিনা! ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকের সংগঠন আছে কিন্তু মহিলাদের কোন গণ সংগঠন নাই। তখন এই প্রথম আলোচনা আসে। তখন আমরা মতামত দিয়েছিলাম আলাদা সংগঠন দরকার। ছাত্র সংগঠন শেষে এই মহিলারা কোথায় গিয়ে কাজ করবে? মহিলা সংগঠন হলে মহিলারা সেখানে কাজ করতে পারবে। মালেকা আপা, আয়শা আপারাসহ অনেকেই তখনই প্রায় ছাত্র জীবনের শেষে। তখন উনার নাম শুনি যে, উনাকে সভানেত্রী করে এটা করা হচ্ছে। উনি কবি সুফিয়া কামাল এটা জানতাম কিন্ত সমাজকর্মী, নারী অধিকারের কর্মী এটা পরে জেনেছি।
পাকিস্তান আমলে রোকেয়ার নারী শিক্ষার বিষয় গুলিই জানানো হতো। পরবর্তীতে নারীর সমান অধিকার, তার বৈপ্লবিক চিন্তা ভাবনা এগুলো পরবর্তীতে এসে জেনেছি। সুফিয়া কামালের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পরে এসে প্রথম সরাসরি সাক্ষাত হয়। সুলতানা কামালকে দেখতাম উনি সুফিয়া কামালের মেয়ে। এই পরিচয়েই চিনতাম।
৯০ এর দশক থেকে রেগুলার আমি উনার বাসায় গেছি। মাদ্রাসা শিক্ষার উপর একটা স্টাডি করছিলাম। চিটাগংয়ের মোমেন ভাই। উনি রিপোর্টটা আমাদের লিখে দিতেন। তখন প্রায় যেতাম। ৯০ এর শেষের দিকে যেতাম। আর ৮০’র দশকে যেতাম। আর আমার মেয়ে বিড়াল পছন্দ করত। উনার বাসায় অনেক বিড়াল ছিল। এটার জন্য যেতাম। মুনিরার ছোটবোন, আয়শার ননদ এটা ছিল আমার পরিচয়।

রুরাল ডেভেলপমেন্টে চাকরি করার সময় সামনে থেকে নারী আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম না

৯০ এর দশকে দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যার কারণে নারী আন্দোলনে যুক্ত হই। তখন চীনে বিশ্ব নারী সম্মেলন চলছে। শিরিন বানু মিতিলকে আমাদের সংগঠন থেকে পাঠিয়েছিলাম। আমি নিজে ঢাকায় ছিলাম। তাই উদ্যোগ নিয়ে সম্মিলিত নারী সমাজের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছি। পরে, উনার বাসায় বিবৃতি স্বাক্ষর নিতে গেলে বলতেন, তোর কি মিটিং মিছিল নাই। আমার সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসেছিস! এটা বলে ঠাট্টা করতেন।
একদিন নেত্রকোনায় যাবার পথে ট্রেনে প্রচন্ড ভীড় ছিল। পার্টির ছেলেরা উনাকে জোর করে উঠিয়ে দিলেন। পরে আমার ২ বছরের মেয়েকে জানালা দিয়ে তার কোলে দেয়। আমার মেয়ে এত ভয়ে পেয়েছে যে, সে কান্না করে তার কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর তিনি তাকে সারা রাস্তা কোলে নিয়ে যান। এত বড় একজন মানুষ কিন্তু মানুষটা এমনই ছিলেন। বলেন যে, সে তো ঘুমাচ্ছে। তুমি নিতে গেলে উঠে যেতে পারে। আমার কাছেই থাকুক।

মনিরা আপা, আয়শা আপা তারা দুজন তখন মহিলা পরিষদের অন্যতম নেত্রীস্থানীয় কর্মী। যে হিসাবে মনিরার ছোট বোন, আয়শার ননদ এই হিসাবেই বেশি পরিচয় ছিল। পরবর্তীতে ঐ নব্বইয়ের দশকে এসে আমার নিজস্ব একটা ভূমিকা নিয়ে আমার সঙ্গে তার যোগাযোগ বাড়ে।

আগামীকাল প্রকাশিত হবে চতুর্থ পর্ব।
এই সাক্ষাতকারটি ২০২০ সালে নেয়া।

পুরুষতন্ত্রের এবং ধর্মীয় আধিপত্যবাদের কাছে পরাজিত হচ্ছে বাংলাদেশের নারী আন্দোলন: রোকেয়া কবীর

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪

পর্ব – ৩

গায়ের রং কালো ছিল তাই বৈষম্যের শিকার হয়েছি

আমাদের পরিবারের মধ্যে, আমার আর ছোট ভাইয়ের গায়ের রং কালো ছিল। মাকে একজন বলছে, আপনার এই মাইয়ারে কিভাবে বিয়া দিবেন? তখন আমার মা বলল, না আমার মেয়ে নিয়ে কোন চিন্তা নাই। সে লেখাপড়ায় ভাল। সে নিজেরটা নিজে করে খেতে পারবে। এই কথাটা আমাকে মনে যে শক্তিটা দিয়েছে, নিজের মর্যাদা সম্পর্কে যে ধারণাটা দিয়েছে সেটা এখনও আমি বহন করছি। কারণ, আমি কালো এই কথা শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কারণ চাচার সঙ্গে যখন ঘুরতে যেতাম তখন এই কালো মেয়েটাকে কোথায় কুড়িয়ে পেলেন এমন কথা সবাই বলত। আমার বাবাকে কেউ এগুলো বলার সাহস পেত না, কারন তিনি রাশভারি মানুষ ছিলেন। কিন্তু চাচা সৈয়দ আহমেদ খান খুব নরম মানুষ ছিলেন। তিনি সুভাস চন্দ্র বোসের সঙ্গে বার্মায় ফোর্সে কাজ করেছেন।

ছোটবেলায় দেখেছি কমিউনিস্ট নেতারা আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকতেন, তখন মিটিং করতেন। তখন আমি কাউকে চিনতাম না। তাই নাম বলতে পারব না। নাইন- টেনে এ পড়ি তখনকার একটা ঘটনা মনে আছে। মনি সিং তখন আন্ডার গ্রাউন্ডে।  আমাদের বাড়িতে ঢোকার নেত্রকোণা শহর থেকে দুইটা পথ ছিল। মনি সিং ঢাকা থেকে মুভ আউট করেছেন এটা যখন হতো আমাদের বাড়ির দুই প্রবেশ পথে পুলিশ পাহারা বসত। এটা আমার মনে আছে।

কলেজে ছাত্র ইউনিয়ন করেছি। ৬৯ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। ছাত্র ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক হলাম। ৭১ এ ছাত্র ইউনিয়ন থেকে প্রথম যে গ্রুপ যায় সেটাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলাম। প্রথম আর্মস ট্রেনিং নিই। ছাত্রীদের যে ব্রিগেড গঠন করা হয়। আমি সেটার কমান্ডার ছিলাম। ৩০ জানুয়ারি ৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর কাছে আমরা বঙ্গবন্ধুর ডাকে তার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করি। কমিউনিস্ট পার্টির যে গোপন সেল ছিল রোকেয়া হলের সেটার আমি সেল পরিচালনার দায়িত্বে ছিলাম। মিটিং মিছিলে মেয়েদের অর্গানাইজ করে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন সময়ে। মেয়েদের বিভিন্ন স্কুল কলেজে ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন শাখায় অর্গানাইজ করতাম। ট্রেড ইউনিয়নের বিভিন্ন কনফারেন্সে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা, তারপরে কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হতো সেখানে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা, যখন কৃষক সমিতির সারাদেশব্যাপী, তাদেরকে অভ্যর্থনা করা, তাদেরকে খাওয়ার ব্যবস্থা করা, রাত্রে বেলা স্টেশনের ফ্লোরে কম্বল বিছিয়ে আমি অন্যান্য ভলান্টিয়ারের সঙ্গে ছিলাম। বস্তিতে বস্তিতে গিয়ে মানুষকে সচেতন করা এই কাজগুলো করেছি। ছাত্র জীবনের এই কাজগুলোই আমাকে পরবর্তীতে কাজে অনুপ্রাণিত করেছে। এখন যে, সংগঠন করেছি। বিআইডিএস এ আমি একটা রিসার্চ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। আমি যখন সেকেন্ড ইযারে পড়ি।

ইয়াসমিন হত্যা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই সুফিয়া কামালের  সান্নিধ্যে আসি

তার লেখা গল্প, কবিতা, বইতে পড়েছি। যখন কলেজে পড়ি। অনিল মুখার্জী একদিন জিজ্ঞেস করছিল যে মহিলাদের আন্দোলন বাড়ানোর জন্য আলাদা সংগঠন দরকার কিনা!  কারণ পার্টির একটা ব্যাপার ছিল বিভিন্নভাবে মতামত নিয়ে ডেমোক্রেটিক সেন্ট্রালিজম, মহিলা আন্দোলন, নারী মুক্তির আন্দোলন, এটার জন্য আলাদা সংগঠন করা যায় কিনা! ছাত্র, কৃষক, শ্রমিকের সংগঠন আছে কিন্তু মহিলাদের কোন গণ সংগঠন নাই। তখন এই প্রথম আলোচনা আসে। তখন আমরা মতামত দিয়েছিলাম আলাদা সংগঠন দরকার। ছাত্র সংগঠন শেষে এই মহিলারা কোথায় গিয়ে কাজ করবে? মহিলা সংগঠন হলে মহিলারা সেখানে কাজ করতে পারবে। মালেকা আপা, আয়শা আপারাসহ অনেকেই তখনই প্রায় ছাত্র জীবনের শেষে। তখন উনার নাম শুনি যে, উনাকে সভানেত্রী করে এটা করা হচ্ছে। উনি কবি সুফিয়া কামাল এটা জানতাম কিন্ত সমাজকর্মী, নারী অধিকারের কর্মী এটা পরে জেনেছি।
পাকিস্তান আমলে রোকেয়ার নারী শিক্ষার বিষয় গুলিই জানানো হতো। পরবর্তীতে নারীর সমান অধিকার, তার বৈপ্লবিক চিন্তা ভাবনা এগুলো পরবর্তীতে এসে জেনেছি। সুফিয়া কামালের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পরে এসে প্রথম সরাসরি সাক্ষাত হয়। সুলতানা কামালকে দেখতাম উনি সুফিয়া কামালের মেয়ে। এই পরিচয়েই চিনতাম।
৯০ এর দশক থেকে রেগুলার আমি উনার বাসায় গেছি। মাদ্রাসা শিক্ষার উপর একটা স্টাডি করছিলাম। চিটাগংয়ের মোমেন ভাই। উনি রিপোর্টটা আমাদের লিখে দিতেন। তখন প্রায় যেতাম। ৯০ এর শেষের দিকে যেতাম। আর ৮০’র দশকে যেতাম। আর আমার মেয়ে বিড়াল পছন্দ করত। উনার বাসায় অনেক বিড়াল ছিল। এটার জন্য যেতাম। মুনিরার ছোটবোন, আয়শার ননদ এটা ছিল আমার পরিচয়।

রুরাল ডেভেলপমেন্টে চাকরি করার সময় সামনে থেকে নারী আন্দোলনে যুক্ত ছিলাম না

৯০ এর দশকে দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যার কারণে নারী আন্দোলনে যুক্ত হই। তখন চীনে বিশ্ব নারী সম্মেলন চলছে। শিরিন বানু মিতিলকে আমাদের সংগঠন থেকে পাঠিয়েছিলাম। আমি নিজে ঢাকায় ছিলাম। তাই উদ্যোগ নিয়ে সম্মিলিত নারী সমাজের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছি। পরে, উনার বাসায় বিবৃতি স্বাক্ষর নিতে গেলে বলতেন, তোর কি মিটিং মিছিল নাই। আমার সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসেছিস! এটা বলে ঠাট্টা করতেন।
একদিন নেত্রকোনায় যাবার পথে ট্রেনে প্রচন্ড ভীড় ছিল। পার্টির ছেলেরা উনাকে জোর করে উঠিয়ে দিলেন। পরে আমার ২ বছরের মেয়েকে জানালা দিয়ে তার কোলে দেয়। আমার মেয়ে এত ভয়ে পেয়েছে যে, সে কান্না করে তার কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর তিনি তাকে সারা রাস্তা কোলে নিয়ে যান। এত বড় একজন মানুষ কিন্তু মানুষটা এমনই ছিলেন। বলেন যে, সে তো ঘুমাচ্ছে। তুমি নিতে গেলে উঠে যেতে পারে। আমার কাছেই থাকুক।

মনিরা আপা, আয়শা আপা তারা দুজন তখন মহিলা পরিষদের অন্যতম নেত্রীস্থানীয় কর্মী। যে হিসাবে মনিরার ছোট বোন, আয়শার ননদ এই হিসাবেই বেশি পরিচয় ছিল। পরবর্তীতে ঐ নব্বইয়ের দশকে এসে আমার নিজস্ব একটা ভূমিকা নিয়ে আমার সঙ্গে তার যোগাযোগ বাড়ে।

আগামীকাল প্রকাশিত হবে চতুর্থ পর্ব।
এই সাক্ষাতকারটি ২০২০ সালে নেয়া।