- অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা
- বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে অস্থিরতা
- অফিস খুললেও আসছেন না অনেক ঢাবির কর্মকর্তা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণার পাশাপাশি ৬ আগস্ট থেকে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হয়। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও এখনও শিক্ষার স্বাভাবিক গতি ফেরেনি। বরং দেশের বিভিন্ন কাজে স্বেচ্ছাসেবায় অনেক শিক্ষার্থীর ব্যস্ততাসহ নানা কারণে শিগগিরই শিক্ষাকার্যক্রম চাঙা হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোর ভিসি-প্রক্টরসহ প্রশাসনিক পদ থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা বঞ্চনা নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে বেশ অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। একের পর এক পরীক্ষা স্থগিতের পর নতুন রুটিনে ১১ আগস্ট থেকে তা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই রুটিনও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় নতুন সরকার গঠনের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে জোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু।
জানা গেছে, কোটা ইস্যুতে আন্দোলনের সময় শিক্ষকদের ভূমিকায় চরম নাখোশ শিক্ষার্থীরা। কিছু শিক্ষক ওই আন্দোলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নানা সহযোগিতা করেছেন। তবে অনেকেই এতে নানাভাবে বাধাবিঘ্ন দেন বলে অভিযোগ আছে। আর আন্দোলনে বিজয় পরবর্তী অসহযোগিতকারী শিক্ষকদের ক্লাসে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীদের অনেকে। এতে বেশ অস্বস্তিতে আছেন শিক্ষকরা। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসতে বেশ সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে ছাত্র বিক্ষোভ : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গত ১৮ জুলাই বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় শিক্ষার্থী (ছেলে মেয়েদের) মারধর, অত্যাচার, মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন করার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
গতকাল দুপুরে স্কুলের বনশ্রী শাখায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এই প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান। তারা অধ্যক্ষ বরাবরে স্মারকলিপি বনশ্রী শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনকে দিলে তা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে তাদের প্রতিনিধিরা মতিঝিল গিয়ে অধ্যক্ষ ইমাম হোসেনের কাছে প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক (বনশ্রী) কলিম মোরশেদ, সহকারী প্রধান শিক্ষক (মতিঝিল) মোকছেদুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মাহিকে দায়ী করেন। তাদের আরও ৭/৮ জন সহযোগী শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে তাদেরকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থায়ী বহিষ্কার করার দাবি জানান।
অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা : দেশের চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেছেন সরকারি মাধ্যমিক শাখা-২ এর উপসচিব সাইয়েদ এ. জেড মোরশেদ আলী। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসমূহ অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে। পরীক্ষা গ্রহণের সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
এর আগে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কয়েক দফায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। প্রথমে গত ১৮ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তারপর একসঙ্গে ২১, ২৩ ও ২৫ জুলাইয়ের সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর আরেক দফায় ২৮ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরবর্তী পরীক্ষা ছিল ৪ আগস্ট। পরে নতুন সিদ্ধান্ত হয় ১১ আগস্ট থেকে নতুন সময়সূচিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা ৩০ জুন শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ১১ আগস্ট। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১২ আগস্ট থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল।
অফিস খুললেও আসছেন না অনেক ঢাবির কর্মকর্তা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা : মঙ্গলবার সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের পর গতকাল থেকেই কর্মব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রশাসনিক ভবনে। তবে অনেকেই এখনো শঙ্কিত বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তারা। প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক কর্মকর্তা অফিসে আসেননি। এতে জরুরি কাজে আসা অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ঘুরে দেখা যায়, সকল অফিস খুললেও সব কর্মকর্তা আসেনি। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ না থাকলেও তাদের অফিসও খোলা রয়েছে। উপাচার্যের একান্ত সচিব আরাফাত হোসেন বলেন, সিন্ডিকেট মিটিংয়ের পর সবাইকে কর্মক্ষেত্রে আসার জন্য বলা হয়েছে পরিবহনটা চালু হয়ে গেছে আমি সবগুলো জায়গায় ঘুরার সুযোগ পাইনি তবে জানতে পেরেছি, সবাই কর্ম ক্ষেত্রে আসার চেষ্টা করছেন। এদিকে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপট উঠাতে এসে ভোগান্তিতে পড়েন এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, সকালে একাডেমিক কয়েকটি কাগজ উঠাতে এসে দেখি অনেক রুমে কর্মকর্তারা নেই। এসময় প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য কোষাধ্যক্ষ কাউকেই দেখা যায়নি।















