১১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশি শ্রমবাজারে অস্থিরতা

কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন বহু কর্মী    
❖খালি হাতে দেশে ফিরছেন অনেকে
❖বিদেশি কোম্পানি-প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করছেন এজেন্সি মালিকরা
❖নতুন বাজার চালুতে মন্ত্রণালয়কে তৎপর হওয়ার পরামর্শ
❖সমস্যার দ্রুত সমাধানে সম্প্রসারিত হচ্ছে প্রবাস কল সেন্টার

 

 

 

 

 

দেশের রেমিটেন্স প্রবাহ সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন প্রবাসী কর্মীরা। প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ লাখ কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য গমন করছেন। সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা বা নিয়োগপত্র অনুযায়ী প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের তত্ত্বাবধানে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমেই মূলত বিদেশে কর্মী পাঠানো হয়। বর্তমানে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১৭৬টি দেশে বসবাস করছেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে নানা জটিলতায় গুরুত্বপূর্ণ এই জনশক্তি রপ্তানি খাতে বিরাজ করছে অস্থিরতা। মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ পুরানো ও বড় দেশগুলোতে গিয়ে চুক্তি অনুযায়ী কাক্সিক্ষত চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে অনেকে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে পরিবারের কথা চিন্তা করে কষ্ট স্বীকার করেই বিদেশে দিন কাটালেও কেউ কেউ আবার খালি হাতেই দেশে ফিরে আসছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে কর্মী ফেরতের সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিদেশে গিয়ে কর্মীদের দুর্ভোগে পড়ার জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা দেশের এজেন্সিগুলোকে দায়ী করলেও তাদের বক্তব্য উল্টো। এজন্য বিদেশি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলোই মূলত দায়ী এবং তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া সম্ভাবনাময় নতুন নতুন শ্রমবাজার চালু ও বিদ্যমান বাজারের সমস্যা সমাধানে সরকারকে আরও বেশি তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। অপরদিকে প্রবাসীদের সব সমস্যার সমাধানে কাজ করার কথা জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া প্রবাসীদের সমস্যার দ্রুত সমাধানে বর্তমানে চালু থাকা প্রবাসবন্ধু কল সেন্টারকে আরো সম্প্রসারিত করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

প্রবাসীকর্মীদের সমস্যা সম্পর্কে সম্প্রতি মালয়েশিয়া ফেরত একজন কর্মী সবুজ বাংলাকে বলেন, দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের দুর্ভোগ-দুর্দশার শেষ নেই। নেপাল-মিয়ানমার থেকে যেসব কর্মী মালয়েশিয়ায় যায় তারা সংশ্লিষ্ট রিক্রটিং এজেন্সির মাধ্যমে কাজের ভিসা নিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে নিয়োগ পান। তাদের কেউ বেকার বা রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায় না। অথচ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আসার পর কুয়ালালামপুরে কিছু দিন রাখার পর কনস্ট্রাকশন ভিসা লাগিয়ে বলে কাজ খুঁজে নাও। এরপর সবাই মহাবিপদে পড়ে। অনেকে রাস্তায় রাস্তায় দিন কাটায় আর মালয়েশিয়ান পুলিশের ঝামেলায় পড়েন। এভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকে। তাছাড়া নেপাল-মিয়ানমার থেকে কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে ২ লাখের মতো খরচ হলেও বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকা লেগে যাচ্ছে।

তিনি জানান, মালয়েশিয়ার যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে কয়েক হাজার কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে ইমিগ্রেশনে ৫০০ রিংগিত জমা দিয়ে ফেরত আসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে, এতে অনেকেই চলে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিদেশে যাওয়ার শুরু থেকেই নানা হয়রানি প্রসঙ্গে ওই প্রবাসী বলেন, মালয়েশিয়ায় যেতে ইউনিয়ন পরিষদের সনদ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য কার্ড, পাসপোর্ট তৈরিÑ সবক্ষেত্রেই হয়রানির শিকার হতে হয়। পাসপোর্ট খরচ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লাগে। মেডিক্যাল কার্ড করতে যেখানে ৫ হাজার টাকা লাগার কথা সেখানে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে। তারপর বেশিরভাগ ভুয়া ভিসায় পাঠানো হয়, সেখানে গিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকেন। মালয়েশিয়ায় প্রথমে কিছুদিন এক জায়গায় রেখে পরে ছেড়ে দেয়। ডিভিশনভিত্তিক দেয়া ভিসা নিয়ে অন্য কাজ করা যায় না। এতে সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্দশায় পড়েন। তাদের চোখের পানি দেখার মতো নয়। অন্যের কাছ থেকে টাকা চেয়ে চেয়ে খায়।

এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেকে দেশে ফিরতেও পারেন না। আর পাসপোর্ট রিনিউয়ের জন্য কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট অফিসে গেলে সেখানেও চরম হয়রানি করা হয়। মাস পাঁচেক আগে পাসপোর্ট নিতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে চরম খারাপ আচরণ করা হয় সেখানে। ধমক ও গালি দিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। অথচ অফিসের দালালরা এসে ৫০ রিংগিত চায়, দিলে সহজে কাজ হয় না দিলে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

ফেরার সময় ঢাকা এয়ারপোর্টেও হয়রানির কথা জানিয়ে প্রবাসী কর্মী বলেন, তার ব্যাগে ইলেকট্রিক কেটলি দেখে ৩ হাজার টাকা চায়। কিন্তু এটা নিষিদ্ধের তালিকায় না থাকার কথা বললেও বাক-বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে আনসারদের সহযোগিতায় তিনি বের হয়ে আসেন। তিনি বলেন, এয়ারপোর্টে সবাইকে হয়রানি করে, কেউ কেউ ভয়ে টাকা দিয়ে দেয়। এছাড়া এয়ারপোর্টে সরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের বুথে মানি এক্সচেঞ্জ করতেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। যেখানে রিংগিতের রেট ২৫ টাকা চলছিল, সেখানে তারা ২২ টাকা দেয়। এভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। দেখার যেন কেউ নেই।

প্রবাসী কর্মীদের নানা সমস্যা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন- বায়রার যুগ্ম মহাসচিব এম টিপু সুলতান সবুজ বাংলাকে বলেন, ভিসা আনার ক্ষেত্রে সত্যায়ন নিয়ে যে জটিলতা ছিল, মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর তাদের উদ্যোগে কিছুটা সহজ হয়েছে। এখন সমস্যা হলো- ডেসটিনেশন কান্ট্রিতে যাওয়ার পর বেশ কিছু কোম্পানি কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বেতন-কাজ দিচ্ছে না। অনেকেই বসে আছেন। দুর্ভোগে পড়ছেন। এজন্য আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায় করা হচ্ছে। কিন্তু আসলে এ দায় আমাদের নয়। কারণ অনলাইন ভিসা সংশ্লিষ্ট দেশ দেয়, যা দূতাবাস থেকে সত্যায়ন হয়ে এজেন্সির মাধ্যমে আসে। কিন্তু কোনো সমস্যা হলেই বিএমইটি থেকে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ধরা হয়, তাদের সার্ভার বন্ধ করে দেয়া হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট দেশে যাওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী কর্মীদের যে কাজ বা বেতন ধরা উচিত তা ধরে না। এতে এদেশের এজেন্সির কোনো সক্ষমতা থাকে না। বিভিন্ন সময় সমস্যা হয়। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় এ সমস্যা বেশি। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে জানতে পারছি।

বায়রা নেতা জানান, যে কোম্পানি বা দেশ ভিসা দিচ্ছে এবং পরবর্তীতে কর্মীরা সমস্যা পড়ছে, তাদের না ধরে এদেশের এজেন্সিগুলোকে ধরে সমস্যা খোঁজা হচ্ছে। অথচ ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশ সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধেই অ্যাকশনে যায়, যেটা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে হয় না।

তিনি বলেন, আমাদের এজেন্সির মধ্যে ভালো-মন্দ আছে। তবে সর্বোপরি দেড় কোটি কর্মী আমাদের মাধ্যমেই বিদেশে গেছেন। তাদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের কাজে লাগছে। তারা না গেলে এসব টাকা কোথা থেকে আসতো? রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বিদেশে ঘুরে ঘুরে ভিসা নিয়ে আসে। এরপরও নানা হয়রানির শিকার হয়। আগে মানবপাচার আইনে নিগৃহীত হতাম। বর্তমানে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হয়রানি কিছুটা বন্ধ করা হয়েছে। অবশ্য থানায় কোনা মামলা নিয়ে সমস্যা না হলেও আদালতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি বিশে কর্মী যাওয়ার গতি কমে যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে এম টিপু সুলতান-দীর্ঘদিন সিঙ্গেল ম্যানপাওয়ার দিচ্ছিল না। নানা নতুন নিয়ম এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিব নতুন হওয়ার কারণে সমস্যা সমাধানে/সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। এক্ষেত্রে অন্য দেশ কর্মী পাঠানোতে এগিয়ে গিয়েছে।

তিনি বলেন, আগে যেখানে এক লাখ থেকে ৮০ হাজার নারী কর্মী যেত সেখানে এখন ২০ হাজারের মতো যাচ্ছে। তাদের ট্রেনিং নিয়ে সমস্যা আছে।

বায়রার এ নেতা আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে কর্মীর চাহিদা আছে। কিন্তু টেকনিক্যাল কিছু সমস্যার কারণে পাঠানো যাচ্ছে না। যেমন ওমানের মতো বড় বাজারে কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় সমস্যা চলছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মী যায়। রোমানিয়া উল্লেখযোগ্য একটি বাজার। সেখানে কর্মী যাচ্ছে। তবে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের ভিসার জন্য দিল্লি যেতে হয়। আর ভারতের ভিসা সহজে পাওয়া যায় না। ইউরোপে একজন কর্মী পাঠানো মানে অন্যদেশের ৫/১০ জনের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যায়। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে কর্মীর চাহিদা বা বাজার চালুর সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এসব দেশে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে মন্থর গতি দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে। এজন্য যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে মন্ত্রণালয়কে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে কর্মীর যথেষ্ট চাহিদা আছে। কিন্তু চুক্তি না থাকায় পাঠানো যাচ্ছে না। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকারের সহযোগিতা ছাড়া হয় না।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা যেতে পারছে না। মালয়েশিয়ার শ্রমিক পাঠানো নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। আগামী ৩১ মে থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার। মধ্যপ্রাচ্যের দু-একটা দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশের অবস্থাও খারাপ। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, সাধারণ শ্রমিকরা বিদেশ যেতে টাকা জমা দিয়ে রেখেছে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিকে। কিন্তু সময়মতো স্মার্টকার্ড না পাওয়ার কারণে অনেক এজেন্সি ছাড়পত্র পাচ্ছে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছাড়পত্র বিলম্ব হয়। এ কারণে বাতিল হয়ে যায় অনেকের ভিসা। আর বিএমইটি স্মার্টকার্ড ছাড়া কোনোভাবেই বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কাউকে যাওয়ার সুযোগ দেয় না। মেয়াদ নিয়ে উৎকণ্ঠিত থাকা ভিসাপ্রাপ্তরা রিক্রুটিং এজেন্সির সামনে গিয়ে ভিড় জমান। কারণ তারা তাদের সম্পূর্ণ টাকাই পরিশোধ করেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কাছে আমাদের স্মার্টকার্ডের সার্ভার ট্রান্সফারের কাজ আমরা শেষ করেছি। আশা করছি, স্মার্টকার্ড নিয়ে যে সমস্যাগুলো হচ্ছে সেগুলো আর থাকবে না। ডাটাবেজটাও আগের তুলনায় অনেক সিকিউরড হবে। ডাটাবেজ হ্যাকের যে ঘটনা ঘটেছিল তা তদন্তের জন্য সাইবার সিকিউরিটিতে দিয়েছি।
দূতাবাস থেকে ভিসার সত্যায়নে দেরি হওয়া প্রসঙ্গে সচিব বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দূতাবাসগুলো থেকে যত তাড়াতাড়ি পারা যায় সত্যায়ন নিয়ে আসার জন্য। এ জন্য দূতাবাসগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি।
প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমিও আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো প্রবাসীদের সেবা করার।

প্রবাসীদের অভাব-অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে সরাসরি যোগাযোগের অনুরোধ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি নিজেও প্রবাসী ছিলাম, তাই প্রবাসীদের দুঃখকষ্ট আমি বুঝি। যে কোনো অভাব-অভিযোগ বা সমস্যা যেটা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান দরকার, সেটা প্রয়োজনে সরাসরি আমার কাছে দিন। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো তা সমাধানের।

এদিকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রবাসীদের সমস্যা বা অভিযোগ শুনতে বর্তমানে এই দপ্তরের অধীনে প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার চালু রয়েছে। প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে কল্যাণ বোর্ড। তবে এই সেবাকে আরও বাড়াতে কল সেন্টার কার্যক্রম নতুন আঙ্গিকে সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই কল সেন্টারের তথ্য নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানা গেছে।

বিদেশি শ্রমবাজারে অস্থিরতা

আপডেট সময় : ০২:০৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪

কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন বহু কর্মী    
❖খালি হাতে দেশে ফিরছেন অনেকে
❖বিদেশি কোম্পানি-প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করছেন এজেন্সি মালিকরা
❖নতুন বাজার চালুতে মন্ত্রণালয়কে তৎপর হওয়ার পরামর্শ
❖সমস্যার দ্রুত সমাধানে সম্প্রসারিত হচ্ছে প্রবাস কল সেন্টার

 

 

 

 

 

দেশের রেমিটেন্স প্রবাহ সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন প্রবাসী কর্মীরা। প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ লাখ কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য গমন করছেন। সংশ্লিষ্ট দেশের চাহিদা বা নিয়োগপত্র অনুযায়ী প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের তত্ত্বাবধানে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমেই মূলত বিদেশে কর্মী পাঠানো হয়। বর্তমানে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১৭৬টি দেশে বসবাস করছেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে নানা জটিলতায় গুরুত্বপূর্ণ এই জনশক্তি রপ্তানি খাতে বিরাজ করছে অস্থিরতা। মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ পুরানো ও বড় দেশগুলোতে গিয়ে চুক্তি অনুযায়ী কাক্সিক্ষত চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে অনেকে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে পরিবারের কথা চিন্তা করে কষ্ট স্বীকার করেই বিদেশে দিন কাটালেও কেউ কেউ আবার খালি হাতেই দেশে ফিরে আসছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে কর্মী ফেরতের সংখ্যা বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিদেশে গিয়ে কর্মীদের দুর্ভোগে পড়ার জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা দেশের এজেন্সিগুলোকে দায়ী করলেও তাদের বক্তব্য উল্টো। এজন্য বিদেশি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানগুলোই মূলত দায়ী এবং তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া সম্ভাবনাময় নতুন নতুন শ্রমবাজার চালু ও বিদ্যমান বাজারের সমস্যা সমাধানে সরকারকে আরও বেশি তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। অপরদিকে প্রবাসীদের সব সমস্যার সমাধানে কাজ করার কথা জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া প্রবাসীদের সমস্যার দ্রুত সমাধানে বর্তমানে চালু থাকা প্রবাসবন্ধু কল সেন্টারকে আরো সম্প্রসারিত করা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

প্রবাসীকর্মীদের সমস্যা সম্পর্কে সম্প্রতি মালয়েশিয়া ফেরত একজন কর্মী সবুজ বাংলাকে বলেন, দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের দুর্ভোগ-দুর্দশার শেষ নেই। নেপাল-মিয়ানমার থেকে যেসব কর্মী মালয়েশিয়ায় যায় তারা সংশ্লিষ্ট রিক্রটিং এজেন্সির মাধ্যমে কাজের ভিসা নিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে নিয়োগ পান। তাদের কেউ বেকার বা রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায় না। অথচ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আসার পর কুয়ালালামপুরে কিছু দিন রাখার পর কনস্ট্রাকশন ভিসা লাগিয়ে বলে কাজ খুঁজে নাও। এরপর সবাই মহাবিপদে পড়ে। অনেকে রাস্তায় রাস্তায় দিন কাটায় আর মালয়েশিয়ান পুলিশের ঝামেলায় পড়েন। এভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকে। তাছাড়া নেপাল-মিয়ানমার থেকে কর্মীদের মালয়েশিয়া যেতে ২ লাখের মতো খরচ হলেও বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকা লেগে যাচ্ছে।

তিনি জানান, মালয়েশিয়ার যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যে কয়েক হাজার কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে ইমিগ্রেশনে ৫০০ রিংগিত জমা দিয়ে ফেরত আসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে, এতে অনেকেই চলে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিদেশে যাওয়ার শুরু থেকেই নানা হয়রানি প্রসঙ্গে ওই প্রবাসী বলেন, মালয়েশিয়ায় যেতে ইউনিয়ন পরিষদের সনদ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য কার্ড, পাসপোর্ট তৈরিÑ সবক্ষেত্রেই হয়রানির শিকার হতে হয়। পাসপোর্ট খরচ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি লাগে। মেডিক্যাল কার্ড করতে যেখানে ৫ হাজার টাকা লাগার কথা সেখানে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে। তারপর বেশিরভাগ ভুয়া ভিসায় পাঠানো হয়, সেখানে গিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকেন। মালয়েশিয়ায় প্রথমে কিছুদিন এক জায়গায় রেখে পরে ছেড়ে দেয়। ডিভিশনভিত্তিক দেয়া ভিসা নিয়ে অন্য কাজ করা যায় না। এতে সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্দশায় পড়েন। তাদের চোখের পানি দেখার মতো নয়। অন্যের কাছ থেকে টাকা চেয়ে চেয়ে খায়।

এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেকে দেশে ফিরতেও পারেন না। আর পাসপোর্ট রিনিউয়ের জন্য কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট অফিসে গেলে সেখানেও চরম হয়রানি করা হয়। মাস পাঁচেক আগে পাসপোর্ট নিতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে চরম খারাপ আচরণ করা হয় সেখানে। ধমক ও গালি দিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। অথচ অফিসের দালালরা এসে ৫০ রিংগিত চায়, দিলে সহজে কাজ হয় না দিলে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

ফেরার সময় ঢাকা এয়ারপোর্টেও হয়রানির কথা জানিয়ে প্রবাসী কর্মী বলেন, তার ব্যাগে ইলেকট্রিক কেটলি দেখে ৩ হাজার টাকা চায়। কিন্তু এটা নিষিদ্ধের তালিকায় না থাকার কথা বললেও বাক-বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে আনসারদের সহযোগিতায় তিনি বের হয়ে আসেন। তিনি বলেন, এয়ারপোর্টে সবাইকে হয়রানি করে, কেউ কেউ ভয়ে টাকা দিয়ে দেয়। এছাড়া এয়ারপোর্টে সরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের বুথে মানি এক্সচেঞ্জ করতেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। যেখানে রিংগিতের রেট ২৫ টাকা চলছিল, সেখানে তারা ২২ টাকা দেয়। এভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। দেখার যেন কেউ নেই।

প্রবাসী কর্মীদের নানা সমস্যা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন- বায়রার যুগ্ম মহাসচিব এম টিপু সুলতান সবুজ বাংলাকে বলেন, ভিসা আনার ক্ষেত্রে সত্যায়ন নিয়ে যে জটিলতা ছিল, মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর তাদের উদ্যোগে কিছুটা সহজ হয়েছে। এখন সমস্যা হলো- ডেসটিনেশন কান্ট্রিতে যাওয়ার পর বেশ কিছু কোম্পানি কর্মীদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বেতন-কাজ দিচ্ছে না। অনেকেই বসে আছেন। দুর্ভোগে পড়ছেন। এজন্য আমাদের রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায় করা হচ্ছে। কিন্তু আসলে এ দায় আমাদের নয়। কারণ অনলাইন ভিসা সংশ্লিষ্ট দেশ দেয়, যা দূতাবাস থেকে সত্যায়ন হয়ে এজেন্সির মাধ্যমে আসে। কিন্তু কোনো সমস্যা হলেই বিএমইটি থেকে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে ধরা হয়, তাদের সার্ভার বন্ধ করে দেয়া হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট দেশে যাওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী কর্মীদের যে কাজ বা বেতন ধরা উচিত তা ধরে না। এতে এদেশের এজেন্সির কোনো সক্ষমতা থাকে না। বিভিন্ন সময় সমস্যা হয়। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় এ সমস্যা বেশি। সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে জানতে পারছি।

বায়রা নেতা জানান, যে কোম্পানি বা দেশ ভিসা দিচ্ছে এবং পরবর্তীতে কর্মীরা সমস্যা পড়ছে, তাদের না ধরে এদেশের এজেন্সিগুলোকে ধরে সমস্যা খোঁজা হচ্ছে। অথচ ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশ সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধেই অ্যাকশনে যায়, যেটা আমাদের দেশের ক্ষেত্রে হয় না।

তিনি বলেন, আমাদের এজেন্সির মধ্যে ভালো-মন্দ আছে। তবে সর্বোপরি দেড় কোটি কর্মী আমাদের মাধ্যমেই বিদেশে গেছেন। তাদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের কাজে লাগছে। তারা না গেলে এসব টাকা কোথা থেকে আসতো? রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বিদেশে ঘুরে ঘুরে ভিসা নিয়ে আসে। এরপরও নানা হয়রানির শিকার হয়। আগে মানবপাচার আইনে নিগৃহীত হতাম। বর্তমানে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হয়রানি কিছুটা বন্ধ করা হয়েছে। অবশ্য থানায় কোনা মামলা নিয়ে সমস্যা না হলেও আদালতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে সম্প্রতি বিশে কর্মী যাওয়ার গতি কমে যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে এম টিপু সুলতান-দীর্ঘদিন সিঙ্গেল ম্যানপাওয়ার দিচ্ছিল না। নানা নতুন নিয়ম এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-সচিব নতুন হওয়ার কারণে সমস্যা সমাধানে/সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। এক্ষেত্রে অন্য দেশ কর্মী পাঠানোতে এগিয়ে গিয়েছে।

তিনি বলেন, আগে যেখানে এক লাখ থেকে ৮০ হাজার নারী কর্মী যেত সেখানে এখন ২০ হাজারের মতো যাচ্ছে। তাদের ট্রেনিং নিয়ে সমস্যা আছে।

বায়রার এ নেতা আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে কর্মীর চাহিদা আছে। কিন্তু টেকনিক্যাল কিছু সমস্যার কারণে পাঠানো যাচ্ছে না। যেমন ওমানের মতো বড় বাজারে কর্মী যাওয়া বন্ধ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় সমস্যা চলছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মী যায়। রোমানিয়া উল্লেখযোগ্য একটি বাজার। সেখানে কর্মী যাচ্ছে। তবে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের ভিসার জন্য দিল্লি যেতে হয়। আর ভারতের ভিসা সহজে পাওয়া যায় না। ইউরোপে একজন কর্মী পাঠানো মানে অন্যদেশের ৫/১০ জনের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যায়। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে কর্মীর চাহিদা বা বাজার চালুর সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এসব দেশে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে মন্থর গতি দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়াতে হবে। এজন্য যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে মন্ত্রণালয়কে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে কর্মীর যথেষ্ট চাহিদা আছে। কিন্তু চুক্তি না থাকায় পাঠানো যাচ্ছে না। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকারের সহযোগিতা ছাড়া হয় না।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা যেতে পারছে না। মালয়েশিয়ার শ্রমিক পাঠানো নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। আগামী ৩১ মে থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার। মধ্যপ্রাচ্যের দু-একটা দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশের অবস্থাও খারাপ। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, সাধারণ শ্রমিকরা বিদেশ যেতে টাকা জমা দিয়ে রেখেছে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিকে। কিন্তু সময়মতো স্মার্টকার্ড না পাওয়ার কারণে অনেক এজেন্সি ছাড়পত্র পাচ্ছে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছাড়পত্র বিলম্ব হয়। এ কারণে বাতিল হয়ে যায় অনেকের ভিসা। আর বিএমইটি স্মার্টকার্ড ছাড়া কোনোভাবেই বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কাউকে যাওয়ার সুযোগ দেয় না। মেয়াদ নিয়ে উৎকণ্ঠিত থাকা ভিসাপ্রাপ্তরা রিক্রুটিং এজেন্সির সামনে গিয়ে ভিড় জমান। কারণ তারা তাদের সম্পূর্ণ টাকাই পরিশোধ করেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কাছে আমাদের স্মার্টকার্ডের সার্ভার ট্রান্সফারের কাজ আমরা শেষ করেছি। আশা করছি, স্মার্টকার্ড নিয়ে যে সমস্যাগুলো হচ্ছে সেগুলো আর থাকবে না। ডাটাবেজটাও আগের তুলনায় অনেক সিকিউরড হবে। ডাটাবেজ হ্যাকের যে ঘটনা ঘটেছিল তা তদন্তের জন্য সাইবার সিকিউরিটিতে দিয়েছি।
দূতাবাস থেকে ভিসার সত্যায়নে দেরি হওয়া প্রসঙ্গে সচিব বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দূতাবাসগুলো থেকে যত তাড়াতাড়ি পারা যায় সত্যায়ন নিয়ে আসার জন্য। এ জন্য দূতাবাসগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি।
প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন, আমিও আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো প্রবাসীদের সেবা করার।

প্রবাসীদের অভাব-অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে সরাসরি যোগাযোগের অনুরোধ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি নিজেও প্রবাসী ছিলাম, তাই প্রবাসীদের দুঃখকষ্ট আমি বুঝি। যে কোনো অভাব-অভিযোগ বা সমস্যা যেটা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান দরকার, সেটা প্রয়োজনে সরাসরি আমার কাছে দিন। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো তা সমাধানের।

এদিকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রবাসীদের সমস্যা বা অভিযোগ শুনতে বর্তমানে এই দপ্তরের অধীনে প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার চালু রয়েছে। প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে কল্যাণ বোর্ড। তবে এই সেবাকে আরও বাড়াতে কল সেন্টার কার্যক্রম নতুন আঙ্গিকে সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই কল সেন্টারের তথ্য নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে জানা গেছে।