০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল হামলা করলে সেকেন্ডেই জবাব দেবে ইরান

ইসরায়েলে ইরানের হামলা

➤ইরানের সঙ্গে সংঘাত নয়, ইসরায়েলকে রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র
➤মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
➤ইরান একা নয়, পেছনে রাশিয়া-চীন
➤ইরানের হামলা ঠেকাতে ৩৮ গুণের বেশি ব্যয় ইসরায়েলের
➤ ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে উভয়সংকটে ভারত

 

 

 

 

ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে দখলদার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। নজিরবিহীন হামলার পর চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাজনীতিবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি কানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি পাল্টা হামলা চালায়, ইরান কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জবাব দেবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কুদস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা জাহেদিসহ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। বদলা হিসেবে ইরান গত শনিবার রাতভর ইসরায়েলে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের বেশির ভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয় বলে দাবি তেল আবিবের। ইসরায়েলে হামলার মধ্য দিয়ে বদলার বিষয়টির রফাদফা হয়ে গেছে বলে মনে করছে ইরান। তবে ইসরায়েলি সামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেভি বলেছেন, ইরান সপ্তাহান্তে যে হামলা চালিয়েছে, তার জবাব তারা পাবে। ইসরায়েল সামনের দিকে তাকাচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কী হবে তা বিবেচনা করছে। ইসরায়েল রাষ্ট্রের সীমান্ত লক্ষ্য করে এত বেশি সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউএভি নিক্ষেপ করা হয়েছে, তার জবাব দেওয়া হবে। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দোল্লাহিয়ান বলেছেন, তেহরান উত্তেজনা বৃদ্ধির পক্ষে নয়। কিন্তু ইসরায়েল যদি পাল্টা হামলা চালায় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আরো জোরালো জবাব দেওয়া হবে। এদিকে ইসরায়েলে ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে তেল আবিবের প্রতি তার দেশের সমর্থন ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। তবে ওই সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর তিনি জোর দেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন থেকে জানানো হয়েছে, লয়েড অস্টিনের এ ফোনালাপের আগে গত শনিবার ইসরায়েলে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী হামলা চালায় ইরান। এদিকে গত সোমবার ইরাকের উপপ্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী তামিমের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, আমরা উত্তেজনা চাই না, তবে আমরা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা এবং এই অঞ্চলে আমাদের কর্মীদের সুরক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখব। তিনি ৩৬ ঘণ্টা ধরে আলোচনার মধ্যে জড়িয়ে ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি একটি কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করতে চেয়েছিলেন, যা এ অঞ্চলে সংকট ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে।

অন্যদিকে ইরানে এই হামলায় ইসরায়েলে ক্ষয়ক্ষতি ততটা না হলেও মধ্যপ্রাচ্যে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালালে তাতে দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। এ অঞ্চল বা বিশ্ব কেউই আরও যুদ্ধের ক্ষতি সামলাতে পারবে না। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৩৩ হাজার ৭৯৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ত্রাণ ঢুকতে না দেওয়ায় খাবারের অভাবে ধুঁকছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। এ পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তা বিপর্যয় নিয়ে আসবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রতি ইরানে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পশ্চিমা মিত্ররা।

এদিকে ইরানের কনস্যুলেটে ইসরায়েলের হামলা এবং ইসরায়েলের ওপর ইরানের পাল্টা আক্রমণ, সর্বশেষ ইসরায়েলের বদলা নেওয়ার হুমকি- এ ঘটনাপ্রবাহে উত্তপ্ত হয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্য। ওই অঞ্চলের দেশগুলো বেশিরভাগ ইরানের পক্ষ নিলেও পশ্চিমা দেশগুলো অনেকেই আবার ইসরায়েলের পক্ষে। এমন অবস্থায় পর্দার আড়ালে ইরানের শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে আরো দুই বৈশ্বিক পরাশক্তি- রাশিয়া এবং চীন। ইরানের পক্ষে এই দুই দেশের সমর্থনের বড় প্রমাণ হলো, ইসরায়েলের ওপর হামলায় মিসাইল গাইডেন্স সিস্টেম হিসেবে ইরান যেমন চীনের বেইদু স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করেছে, এর পাশাপাশি ব্যবহার করেছে রাশিয়ার গ্লনাস সিস্টেম। এছাড়া আগে জানা গিয়েছিল রাশিয়ার সাথে ইউএভি তৈরির গবেষণা চালাচ্ছে ইরান। এ ধরণের ইউএভির ব্যবহার হয় ইসরায়েলে হামলার সময়ে।

 

ইরানের হামলা ঠেকাতে ৩৮ গুণের বেশি ব্যয় ইসরায়েলের : সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। ইরানের ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ৯৯ শতাংশই ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েল। আর এ হামলা চালাতে ইরানের যে ব্যয় হয়েছে তার চেয়ে ঠেকাতে ইসরায়েলের খরচ হয়েছে ৩৮ গুণের বেশি। দ্য ক্রাডলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইসরায়েলি জোটের হিসাব ছাড়াই ইসরায়েলের খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার। অপরদিকে ইরানের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলে হামলায় ব্যবহৃত দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য মাত্র ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যা তেল আবিবের ব্যয়ের মাত্র দুই দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ, ৩৮ দশমিক ৫৭ গুণেরও বেশি খরচ হয়েছে ইসরায়েলের। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ওপর হামলায় ১৭০টি ড্রোন, ৩০টি ক্রুস মিসাইল এবং ১১০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তবে ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি একটি ড্রোনের মূল্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার, একটি ক্রুস মিসাইলের দাম ৬৫ লাখ ডলার এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ৩০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে হামলা চালাতে ইরান ৬ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ড্রোন, ১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ক্রুস মিসাইল এবং ৩৩ কোটি ডলারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করেছে। অর্থাৎ, পুরো হামলা চালাতে ইরানের খরচ হয়েছে ৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। যদিও ইসরায়েলে হামলায় ইরান কোন ড্রোন ব্যবহার করেছে এবং কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তা স্পষ্ট নয়। ফলে ইসরায়েলে হামলায় ইরানের ব্যয়ের হিসাবে তারতম্য হতে পারে।

 

 

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে উভয়সংকটে ভারত : ইরান ও ইসরায়েল উভয়েই ভারতের মিত্র দেশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতের কারণে উভয়সংকটে পড়েছে দেশটি। বিশেষ করে উভয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত নয়াদিল্লি। এই অবস্থায় ভারত এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ নেয়নি। তবে জানিয়েছে, বর্তমান সংকটের পরিণতির পূর্ণাঙ্গ স্বরূপ মূল্যায়নের পরই কেবল দেশটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে। গত শনিবার ইরান ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশকেই ‘ধৈর্য ধরার’ আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ‘সংলাপ ও কূটনীতির’ মাধ্যমে সংকট সমাধানে পরামর্শ দিয়েছে। নয়াদিল্লি এই সংঘাতকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এর ফলে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের কৌশলগত মৈত্রী আছে। দুই দেশ বিগত কয়েক দশক ধরেই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে। তবে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ জোট সরকার ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়। এমনকি প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ইসরায়েল সফরও করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ উষ্ণ। সব মিলিয়ে ভারতের কাছে ইসরায়েল খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, বিশেষ করে নিরাপত্তা খাতে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়ার পর ইসরায়েলই ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী।

সব মিলিয়ে ইরান ও ইসরায়েলের মতো ভারতের দুই মিত্র দেশ একে অপরের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় নয়াদিল্লি বেশ খানিকটা উদ্বিগ্ন। তবে দেশটি দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয়ে এখনই নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বরং অপেক্ষা করে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র মূল্যায়নের পরই সে বিষয়ে এগিয়ে যেতে চায়। এ বিষয়ে ভারতের বাণিজ্যসচিব সুনিল বার্থওয়ালে বলেছেন, আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত। এটা অবশ্য সত্যি যে, সংঘাতের আবহ না থাকলে আমাদের পণ্যের রপ্তানি আরো বাড়তো। ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা পরিপূর্ণভাবে বোঝার পরপরই কেবল নীতিগত হস্তক্ষেপ করা হবে এবং এই ধারাবাহিকতায় সমস্যাগুলোর সমাধানে যা যা করা প্রয়োজন তা সরকার অবশ্যই করবে।

 

ইসরায়েলকে সহায়তা করায় জর্ডানে বিক্ষোভ : ইরান থেকে ইসরায়েলে তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়। তবে এগুলো যেন ইসরায়েল পর্যন্ত না পৌঁছায় সেই চেষ্টা করেছে জর্ডান। আত্মরক্ষার জন্য এটি করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জর্ডান সরকার। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা জর্ডানের নাগরিকেরা সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন। আম্মানের সামরিক বিশ্লেষক মাহমুদ রিদাসাদ বলেন, সপ্তাহান্তে যে ঘটনা ঘটেছে তাকে ‘কখনও ইসরায়েলকে রক্ষার জন্য করা হয়েছে তেমনটা বলা যাবে না, বরং জর্ডানের সার্বভৌমত্ব এবং আকাশসীমা রক্ষার জন্য করা হয়েছে’ কারণ, ড্রোন বা মিসাইল কোথায় পড়বে তা জানা যায় না। এদিকে জর্ডান সহায়তা করেছে বলে ইসরায়েলের গণমাধ্যমে খুশির খবর প্রকাশ, ‘এটা ইসরায়েলের প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছু নয়।’ ব্রাসেলসভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশ্লেষক তাহানি মুস্তফা জানান, ১ এপ্রিলের ঘটনা নিয়ে জর্ডানের নাগরিকেরা বিভক্ত। কারণ, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে জর্ডানের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়ে মানুষ বিস্তারিত জানে না, কারণ এসব বিষয় নিয়ে এখানে বেশি লেখা হয় না। গাজা নিয়ে আম্মানে বিক্ষোভ শুরুর পর অনেকে জর্ডান থেকে মার্কিনিদের তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলতে শুরু করেন।

 

 

হামলার আশঙ্কায় ইরানের পরমাণু স্থাপনা বন্ধ : গত সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পরমাণু স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা নিয়ে আমরা সব সময় উদ্বিগ্ন। ইরান আমাদের পরিদর্শকদের সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে গত রোববার সমস্ত পারমাণবিক স্থাপনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সব স্থাপনাই আমরা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করেছি। সোমবার এই স্থাপনাগুলো আবারও খুলে দেওয়ার কথা। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত পরিদর্শকেরা ফিরবেন না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হচ্ছে, ততক্ষণ পরিদর্শকদের ফিরে আসতে দেব না। এ সময় ‘চরম সংযম’-এর আহ্বান জানান তিনি।

ইসরায়েল হামলা করলে সেকেন্ডেই জবাব দেবে ইরান

আপডেট সময় : ০৬:২১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪

➤ইরানের সঙ্গে সংঘাত নয়, ইসরায়েলকে রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র
➤মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
➤ইরান একা নয়, পেছনে রাশিয়া-চীন
➤ইরানের হামলা ঠেকাতে ৩৮ গুণের বেশি ব্যয় ইসরায়েলের
➤ ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে উভয়সংকটে ভারত

 

 

 

 

ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে দখলদার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েল যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা। নজিরবিহীন হামলার পর চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাজনীতিবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি বাঘেরি কানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল যদি পাল্টা হামলা চালায়, ইরান কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জবাব দেবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কুদস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা জাহেদিসহ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। বদলা হিসেবে ইরান গত শনিবার রাতভর ইসরায়েলে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের বেশির ভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয় বলে দাবি তেল আবিবের। ইসরায়েলে হামলার মধ্য দিয়ে বদলার বিষয়টির রফাদফা হয়ে গেছে বলে মনে করছে ইরান। তবে ইসরায়েলি সামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজি হালেভি বলেছেন, ইরান সপ্তাহান্তে যে হামলা চালিয়েছে, তার জবাব তারা পাবে। ইসরায়েল সামনের দিকে তাকাচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কী হবে তা বিবেচনা করছে। ইসরায়েল রাষ্ট্রের সীমান্ত লক্ষ্য করে এত বেশি সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউএভি নিক্ষেপ করা হয়েছে, তার জবাব দেওয়া হবে। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দোল্লাহিয়ান বলেছেন, তেহরান উত্তেজনা বৃদ্ধির পক্ষে নয়। কিন্তু ইসরায়েল যদি পাল্টা হামলা চালায় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আরো জোরালো জবাব দেওয়া হবে। এদিকে ইসরায়েলে ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে তেল আবিবের প্রতি তার দেশের সমর্থন ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। তবে ওই সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর তিনি জোর দেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন থেকে জানানো হয়েছে, লয়েড অস্টিনের এ ফোনালাপের আগে গত শনিবার ইসরায়েলে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী হামলা চালায় ইরান। এদিকে গত সোমবার ইরাকের উপপ্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী তামিমের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, আমরা উত্তেজনা চাই না, তবে আমরা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা এবং এই অঞ্চলে আমাদের কর্মীদের সুরক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখব। তিনি ৩৬ ঘণ্টা ধরে আলোচনার মধ্যে জড়িয়ে ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি একটি কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সমন্বয় করতে চেয়েছিলেন, যা এ অঞ্চলে সংকট ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে।

অন্যদিকে ইরানে এই হামলায় ইসরায়েলে ক্ষয়ক্ষতি ততটা না হলেও মধ্যপ্রাচ্যে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইসরায়েল পাল্টা হামলা চালালে তাতে দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। এ অঞ্চল বা বিশ্ব কেউই আরও যুদ্ধের ক্ষতি সামলাতে পারবে না। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৩৩ হাজার ৭৯৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ত্রাণ ঢুকতে না দেওয়ায় খাবারের অভাবে ধুঁকছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। এ পরিস্থিতিতে ওই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তা বিপর্যয় নিয়ে আসবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রতি ইরানে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশটির পশ্চিমা মিত্ররা।

এদিকে ইরানের কনস্যুলেটে ইসরায়েলের হামলা এবং ইসরায়েলের ওপর ইরানের পাল্টা আক্রমণ, সর্বশেষ ইসরায়েলের বদলা নেওয়ার হুমকি- এ ঘটনাপ্রবাহে উত্তপ্ত হয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্য। ওই অঞ্চলের দেশগুলো বেশিরভাগ ইরানের পক্ষ নিলেও পশ্চিমা দেশগুলো অনেকেই আবার ইসরায়েলের পক্ষে। এমন অবস্থায় পর্দার আড়ালে ইরানের শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে আরো দুই বৈশ্বিক পরাশক্তি- রাশিয়া এবং চীন। ইরানের পক্ষে এই দুই দেশের সমর্থনের বড় প্রমাণ হলো, ইসরায়েলের ওপর হামলায় মিসাইল গাইডেন্স সিস্টেম হিসেবে ইরান যেমন চীনের বেইদু স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করেছে, এর পাশাপাশি ব্যবহার করেছে রাশিয়ার গ্লনাস সিস্টেম। এছাড়া আগে জানা গিয়েছিল রাশিয়ার সাথে ইউএভি তৈরির গবেষণা চালাচ্ছে ইরান। এ ধরণের ইউএভির ব্যবহার হয় ইসরায়েলে হামলার সময়ে।

 

ইরানের হামলা ঠেকাতে ৩৮ গুণের বেশি ব্যয় ইসরায়েলের : সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে সাম্প্রতিক হামলার জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। ইরানের ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ৯৯ শতাংশই ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েল। আর এ হামলা চালাতে ইরানের যে ব্যয় হয়েছে তার চেয়ে ঠেকাতে ইসরায়েলের খরচ হয়েছে ৩৮ গুণের বেশি। দ্য ক্রাডলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইসরায়েলি জোটের হিসাব ছাড়াই ইসরায়েলের খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার। অপরদিকে ইরানের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলে হামলায় ব্যবহৃত দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য মাত্র ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যা তেল আবিবের ব্যয়ের মাত্র দুই দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ, ৩৮ দশমিক ৫৭ গুণেরও বেশি খরচ হয়েছে ইসরায়েলের। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ওপর হামলায় ১৭০টি ড্রোন, ৩০টি ক্রুস মিসাইল এবং ১১০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। তবে ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি একটি ড্রোনের মূল্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার, একটি ক্রুস মিসাইলের দাম ৬৫ লাখ ডলার এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ৩০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে হামলা চালাতে ইরান ৬ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ড্রোন, ১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ক্রুস মিসাইল এবং ৩৩ কোটি ডলারের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করেছে। অর্থাৎ, পুরো হামলা চালাতে ইরানের খরচ হয়েছে ৫৮ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। যদিও ইসরায়েলে হামলায় ইরান কোন ড্রোন ব্যবহার করেছে এবং কোন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তা স্পষ্ট নয়। ফলে ইসরায়েলে হামলায় ইরানের ব্যয়ের হিসাবে তারতম্য হতে পারে।

 

 

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে উভয়সংকটে ভারত : ইরান ও ইসরায়েল উভয়েই ভারতের মিত্র দেশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতের কারণে উভয়সংকটে পড়েছে দেশটি। বিশেষ করে উভয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত নয়াদিল্লি। এই অবস্থায় ভারত এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ নেয়নি। তবে জানিয়েছে, বর্তমান সংকটের পরিণতির পূর্ণাঙ্গ স্বরূপ মূল্যায়নের পরই কেবল দেশটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে। গত শনিবার ইরান ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশকেই ‘ধৈর্য ধরার’ আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি ‘সংলাপ ও কূটনীতির’ মাধ্যমে সংকট সমাধানে পরামর্শ দিয়েছে। নয়াদিল্লি এই সংঘাতকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এর ফলে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের কৌশলগত মৈত্রী আছে। দুই দেশ বিগত কয়েক দশক ধরেই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে। তবে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ জোট সরকার ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়। এমনকি প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ইসরায়েল সফরও করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ উষ্ণ। সব মিলিয়ে ভারতের কাছে ইসরায়েল খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, বিশেষ করে নিরাপত্তা খাতে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়ার পর ইসরায়েলই ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী।

সব মিলিয়ে ইরান ও ইসরায়েলের মতো ভারতের দুই মিত্র দেশ একে অপরের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় নয়াদিল্লি বেশ খানিকটা উদ্বিগ্ন। তবে দেশটি দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয়ে এখনই নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বরং অপেক্ষা করে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র মূল্যায়নের পরই সে বিষয়ে এগিয়ে যেতে চায়। এ বিষয়ে ভারতের বাণিজ্যসচিব সুনিল বার্থওয়ালে বলেছেন, আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত। এটা অবশ্য সত্যি যে, সংঘাতের আবহ না থাকলে আমাদের পণ্যের রপ্তানি আরো বাড়তো। ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা পরিপূর্ণভাবে বোঝার পরপরই কেবল নীতিগত হস্তক্ষেপ করা হবে এবং এই ধারাবাহিকতায় সমস্যাগুলোর সমাধানে যা যা করা প্রয়োজন তা সরকার অবশ্যই করবে।

 

ইসরায়েলকে সহায়তা করায় জর্ডানে বিক্ষোভ : ইরান থেকে ইসরায়েলে তিন শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়। তবে এগুলো যেন ইসরায়েল পর্যন্ত না পৌঁছায় সেই চেষ্টা করেছে জর্ডান। আত্মরক্ষার জন্য এটি করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জর্ডান সরকার। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা জর্ডানের নাগরিকেরা সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন। আম্মানের সামরিক বিশ্লেষক মাহমুদ রিদাসাদ বলেন, সপ্তাহান্তে যে ঘটনা ঘটেছে তাকে ‘কখনও ইসরায়েলকে রক্ষার জন্য করা হয়েছে তেমনটা বলা যাবে না, বরং জর্ডানের সার্বভৌমত্ব এবং আকাশসীমা রক্ষার জন্য করা হয়েছে’ কারণ, ড্রোন বা মিসাইল কোথায় পড়বে তা জানা যায় না। এদিকে জর্ডান সহায়তা করেছে বলে ইসরায়েলের গণমাধ্যমে খুশির খবর প্রকাশ, ‘এটা ইসরায়েলের প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছু নয়।’ ব্রাসেলসভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশ্লেষক তাহানি মুস্তফা জানান, ১ এপ্রিলের ঘটনা নিয়ে জর্ডানের নাগরিকেরা বিভক্ত। কারণ, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে জর্ডানের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়ে মানুষ বিস্তারিত জানে না, কারণ এসব বিষয় নিয়ে এখানে বেশি লেখা হয় না। গাজা নিয়ে আম্মানে বিক্ষোভ শুরুর পর অনেকে জর্ডান থেকে মার্কিনিদের তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলতে শুরু করেন।

 

 

হামলার আশঙ্কায় ইরানের পরমাণু স্থাপনা বন্ধ : গত সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পর পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পরমাণু স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা নিয়ে আমরা সব সময় উদ্বিগ্ন। ইরান আমাদের পরিদর্শকদের সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে গত রোববার সমস্ত পারমাণবিক স্থাপনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সব স্থাপনাই আমরা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করেছি। সোমবার এই স্থাপনাগুলো আবারও খুলে দেওয়ার কথা। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত পরিদর্শকেরা ফিরবেন না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হচ্ছে, ততক্ষণ পরিদর্শকদের ফিরে আসতে দেব না। এ সময় ‘চরম সংযম’-এর আহ্বান জানান তিনি।