০৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুতের চাহিদা মোকাবেলায় নানা উদ্যোগ

❖ সাশ্রয়ী ও কৃচ্ছ্রসাধন নীতিগ্রহণ
❖ রামপাল, পায়রা ও ভারতের আদানি বড় নির্ভরতা
❖ সর্বোচ্চ এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা
❖ ভোলার গ্যাসে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা
❖ ভারত ও নেপালকে সহযোগিতার প্রস্তাব
❖ অপচয় রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ
❖ সর্বোচ্চ উৎপাদনে এককাট্টা, সোমবার উৎপাদনে রেকর্ড

 

সারা দেশে চলছে তীব্র তাপদাহ। রেকর্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। এরই মধ্যে বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। উৎপাদন ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগকে। শহরাঞ্চলে সহনীয় হলেও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ থাকছে না ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে চলতি গ্রীষ্মে চাহিদার সর্বোচ্চ সরবরাহে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এদিকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকার বদ্ধপরিকর’ বলেও জানিয়েছেন।

 

 

চলতি বছর বৈশাখের মাঝামাঝিতেও নেই বৃষ্টির দেখা। প্রখর রোদের দাপটে তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। তার ওপর লোডশেডিং, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে বাড়িয়েছে বহু গুণে। এদিকে তীব্র তাপদাহের মধ্যেও গত সোমবার বিদ্যুৎ উৎপাদনেও রেকর্ড গড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার ফলাফল এই রেকর্ড বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

এ বছর গরমে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর বিপরীতে বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ মেগাওয়াট। সক্ষমতা থাকলেও পর্যাপ্ত জ¦ালানির অভাবে চাহিদা মেটাতে পারছে না উৎপাদন কোম্পানিগুলো। ফলে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এদিকে পল্লী এলাকাগুলোতে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম চলমান।

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সেচ ও গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা রয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা। গ্যাস অনুসন্ধানে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হলে জ্বালানি খাত এতটা নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়ত না। দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায়ও সমস্যা রয়েছে। কৃষকদের সেচ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এ চাহিদা ১৭ হাজারের বেশি মেগাওয়াটেও পৌঁছাতে পারে। এর আগে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানিতে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে। ফলে বাড়তে থাকে লোডশেডিং। সে সময় দৈনিক গড়ে ১৪-১৫ ঘণ্টা লোডশেডিং রাখতে হয়েছে।

 

 

সংকটের সময়ে ভোলার গ্যাস বিদ্যুৎ খাতের বড় সম্ভাবনা ধরা হয়। সেখান থেকে তিনটি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ডের সঙ্গে নতুন আবিষ্কৃত দুই ক্ষেত্র থেকে দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখছে সরকার। বাপেক্স কর্তৃক খননকৃত ভোলার নর্থ-২ গ্যাসকূপ থেকে দৈনিক ২০ মিলিয়ন বা দুই কোটি ঘনফুট গ্যাস মিলবে যা শুধু ভোলা জেলায়ই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

এছাড়া বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সাশ্রয়ী হওয়া এবং কৃচ্ছ্রসাধনের বিকল্প দেখছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। সরকারি-বেসরকারি সব দপ্তর, স্থাপনা, হাসপাতাল, শপিংমলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কৃচ্ছ্রসাধনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তাছাড়া অতিরিক্ত আলোকসজ্জাসহ সব ধরনের অপচয়কে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে।
এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজধানীসহ বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে বিদ্যুৎচালিত বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড রয়েছে, সেগুলো সময় নির্দিষ্ট করে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। শপিংমলগুলোতে ব্যাপকহারে বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। সেখানে কীভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়, এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সূর্যের আলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অফিসের সময়সূচি কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চিন্তা করতে হবে। যেসব অবৈধ সংযোগ রয়েছে, সেগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।

 

 

এদিকে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ভারত ও নেপালকে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সরকার। সেই লক্ষ্যে বিদ্যুৎ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে চুক্তি সম্পাদনের জন্য প্রতিবেশী ভারত ও নেপালের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এরই মধ্যে। গত ৩০ মার্চ ঢাকায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাসে ‘প্রি-ইভেন্ট সেমিনার অন দ্য থার্ড নেপাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৪’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

 

 

এদিকে গত তিন বছরের মধ্যে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম সর্বনিম্ন। এই কম দামের সুযোগ নিতে চাইছে সরকার। গ্রীষ্মে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক এক হাজার ২৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। গ্রীষ্ম এবং সেচের বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে এই ব্যবস্থা হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে জানান, এপ্রিল থেকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দৈনিক গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে তিন হাজার ১৫১ মিলিয়ন ঘনফুট করা হবে। বিদ্যুৎ, শিল্প এবং সব ধরনের কারখানায় যাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, এ জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক ও আন্তর্জাতিক জ¦ালানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মোহম্মদ হোসাইন দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, এবার সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছে। সে অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে মিটিং করেছি। আশা করি, সব জায়গা থেকে জেনারেট করা সম্ভব হলে চাহিদার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব।

 

তিনি আরো জানান, গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়বে। রামপাল, পায়রা ও ভারতের আদানির সরবরাহ ঠিক থাকলে আমরা আমাদের চাহিদার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড : একদিকে তাপদাহে রেকর্ড অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও রেকর্ড গড়ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার ফলাফল এই রেকর্ড। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে গত সোমবার রাত ৯টায়। সে সময় ১৬ হাজার ২৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। ওইদিন মন্ত্রণালয় সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে দেশব্যাপী চলছে তীব্র তাপদাহ। এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে জনজীবনে স্বস্তি বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এর আগে গত রোববার সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৬৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে রেকর্ড গড়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুতের চাহিদা মোকাবেলায় নানা উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

❖ সাশ্রয়ী ও কৃচ্ছ্রসাধন নীতিগ্রহণ
❖ রামপাল, পায়রা ও ভারতের আদানি বড় নির্ভরতা
❖ সর্বোচ্চ এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা
❖ ভোলার গ্যাসে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা
❖ ভারত ও নেপালকে সহযোগিতার প্রস্তাব
❖ অপচয় রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ
❖ সর্বোচ্চ উৎপাদনে এককাট্টা, সোমবার উৎপাদনে রেকর্ড

 

সারা দেশে চলছে তীব্র তাপদাহ। রেকর্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। এরই মধ্যে বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। উৎপাদন ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগকে। শহরাঞ্চলে সহনীয় হলেও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ থাকছে না ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে চলতি গ্রীষ্মে চাহিদার সর্বোচ্চ সরবরাহে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এদিকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকার বদ্ধপরিকর’ বলেও জানিয়েছেন।

 

 

চলতি বছর বৈশাখের মাঝামাঝিতেও নেই বৃষ্টির দেখা। প্রখর রোদের দাপটে তাপমাত্রার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। তার ওপর লোডশেডিং, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে বাড়িয়েছে বহু গুণে। এদিকে তীব্র তাপদাহের মধ্যেও গত সোমবার বিদ্যুৎ উৎপাদনেও রেকর্ড গড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার ফলাফল এই রেকর্ড বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

এ বছর গরমে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর বিপরীতে বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ মেগাওয়াট। সক্ষমতা থাকলেও পর্যাপ্ত জ¦ালানির অভাবে চাহিদা মেটাতে পারছে না উৎপাদন কোম্পানিগুলো। ফলে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এদিকে পল্লী এলাকাগুলোতে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম চলমান।

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সেচ ও গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের শঙ্কা রয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা। গ্যাস অনুসন্ধানে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হলে জ্বালানি খাত এতটা নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়ত না। দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায়ও সমস্যা রয়েছে। কৃষকদের সেচ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এ চাহিদা ১৭ হাজারের বেশি মেগাওয়াটেও পৌঁছাতে পারে। এর আগে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দেশে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানিতে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটে। ফলে বাড়তে থাকে লোডশেডিং। সে সময় দৈনিক গড়ে ১৪-১৫ ঘণ্টা লোডশেডিং রাখতে হয়েছে।

 

 

সংকটের সময়ে ভোলার গ্যাস বিদ্যুৎ খাতের বড় সম্ভাবনা ধরা হয়। সেখান থেকে তিনটি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ডের সঙ্গে নতুন আবিষ্কৃত দুই ক্ষেত্র থেকে দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখছে সরকার। বাপেক্স কর্তৃক খননকৃত ভোলার নর্থ-২ গ্যাসকূপ থেকে দৈনিক ২০ মিলিয়ন বা দুই কোটি ঘনফুট গ্যাস মিলবে যা শুধু ভোলা জেলায়ই নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

 

এছাড়া বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সাশ্রয়ী হওয়া এবং কৃচ্ছ্রসাধনের বিকল্প দেখছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। সরকারি-বেসরকারি সব দপ্তর, স্থাপনা, হাসপাতাল, শপিংমলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কৃচ্ছ্রসাধনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তাছাড়া অতিরিক্ত আলোকসজ্জাসহ সব ধরনের অপচয়কে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে।
এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজধানীসহ বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে বিদ্যুৎচালিত বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড রয়েছে, সেগুলো সময় নির্দিষ্ট করে বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। শপিংমলগুলোতে ব্যাপকহারে বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। সেখানে কীভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়, এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সূর্যের আলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অফিসের সময়সূচি কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চিন্তা করতে হবে। যেসব অবৈধ সংযোগ রয়েছে, সেগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।

 

 

এদিকে বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ভারত ও নেপালকে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সরকার। সেই লক্ষ্যে বিদ্যুৎ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে চুক্তি সম্পাদনের জন্য প্রতিবেশী ভারত ও নেপালের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এরই মধ্যে। গত ৩০ মার্চ ঢাকায় অবস্থিত নেপাল দূতাবাসে ‘প্রি-ইভেন্ট সেমিনার অন দ্য থার্ড নেপাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৪’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

 

 

এদিকে গত তিন বছরের মধ্যে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম সর্বনিম্ন। এই কম দামের সুযোগ নিতে চাইছে সরকার। গ্রীষ্মে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক এক হাজার ২৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। গ্রীষ্ম এবং সেচের বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে এই ব্যবস্থা হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে জানান, এপ্রিল থেকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দৈনিক গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে তিন হাজার ১৫১ মিলিয়ন ঘনফুট করা হবে। বিদ্যুৎ, শিল্প এবং সব ধরনের কারখানায় যাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়, এ জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক ও আন্তর্জাতিক জ¦ালানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মোহম্মদ হোসাইন দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, এবার সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছে। সে অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে মিটিং করেছি। আশা করি, সব জায়গা থেকে জেনারেট করা সম্ভব হলে চাহিদার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব।

 

তিনি আরো জানান, গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়বে। রামপাল, পায়রা ও ভারতের আদানির সরবরাহ ঠিক থাকলে আমরা আমাদের চাহিদার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড : একদিকে তাপদাহে রেকর্ড অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও রেকর্ড গড়ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার ফলাফল এই রেকর্ড। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে গত সোমবার রাত ৯টায়। সে সময় ১৬ হাজার ২৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। ওইদিন মন্ত্রণালয় সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে দেশব্যাপী চলছে তীব্র তাপদাহ। এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে জনজীবনে স্বস্তি বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এর আগে গত রোববার সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৬৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে রেকর্ড গড়েছিল বিদ্যুৎ বিভাগ।