তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সশরীরে ক্লাস, পরীক্ষা স্থগিত করলেও থেমে নেই শ্রমজীবী মানুষের জীবন। এই অসহনীয় গরমে জীবিকার তাগিদে তাদের কাজ করে যেতে হচ্ছে আগের মতোই। ছুটে চলতে হচ্ছে নিরন্তর।
শ্রমজীবী মানুষদের কষ্টের বিষয়টি বিবেচনায়, এক ভিন্ন ধর্মী মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের একদল উদ্যোমী শিক্ষার্থী। পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষদের তৃষ্ণা নিবারণে বিশ্ববিদ্যালয় সামনে তারা বিনামূল্যে লেবুর শরবত বিতরণ করছেন।
গত সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিনামূল্যে শরবত বিতরণের মাধ্যমে আড়াই শতাধিক মানুষের তৃষ্ণা নিবারণ করেন বলে জানা গেছে।
দর্শন বিভাগের যেসব শিক্ষার্থী এই প্রশংসনীয় উদ্যোগটি গ্রহণ করেছেন তারা হলেন ১৫তম ব্যাচের মো. সাজ্জাদ হোসেন, কলমী আজাদ কঙ্কন, শাহজাহান বাদশা, হাসান ইসলাম, ফারিয়া রহমান বর্ষা, আসফিয়া হক, সোনালী খানম ও ১৭তম ব্যাচের রেযয়ানুল সুমন। এমন উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীসহ নেটিজেনরা তাদের প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন।
কীভাবে এমন উদ্যোগের কথা মাথায় এলো, জানতে চাইলে মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গরমের কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে অনলাইনে ক্লাসের ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে তাপদাহ নিয়ে আমাদের বন্ধুদের মধ্যে কথা হচ্ছিল। গত রোববার রাতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার। সেখান থেকেই এই উদ্যোগ।
কলমী আজাদ কঙ্কন বলেন, আমরা নিজেদের খরচেই পথচারীদের তৃষ্ণা নিবারণ করেছি। নিজেরাই লেবু কেটেছি। এই গরমে শরবত খেয়ে মানুষের স্বস্তি দেখে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি যে, আমরাও কিছু করেছি। সবাইকে অনুরোধ করব যার যার জায়গা থেকে যেটুকু সম্ভব এগিয়ে আসতে।
শরবত খেয়ে রিকশাচালক মাসুদ বলেন, ‘শরবত কিনে খেতি ১০ টাকা লাগে। ঠান্ডা পানি কেমনে পাবো আমরা। কষ্ট করি গরম পানি খেয়ে রিকশা চালাই। রাইসাবাজার মোড়ে দাঁড়ায় ছিলাম। একজন বলল ফ্রি শরবত খাওয়াচ্ছে, তাই আসলাম। শরবত খেয়ে এখন জানটা ঠান্ডা হয়েছে। যারা খাওয়াইছে, আল্লাহ তাদের ভালো করুক’।















