০১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্ক নিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট আজ

◉ বন্যা-তাপদাহে কম ভোট পড়ার শঙ্কা
◉ নরেন্দ্র মোদি ও রাহুল গান্ধীকে ইসির নোটিস
◉ মুসলমানদের বিরুদ্ধে কেন আক্রমণ মোদির

তুমুল বিতর্ককে সঙ্গী করে শুরু হচ্ছে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। ক্ষমতায় এলে কংগ্রেস দেশের সম্পদ মুসলমানদের মধ্যে বাঁটোয়ারা করে দেবে জানিয়ে সেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই। কদিন ধরেই ওই বিতর্ক ঘিরে ভোটের রাজনীতি সরগরম। এই বিতর্ক দ্বিতীয় দফার ভোটে হিন্দুত্ববাদীদের বেশি করে ভোটদানে উৎসাহিত করে দেশব্যাপী ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটায় কি না, সেটাই হতে চলেছে প্রধান দ্রষ্টব্য। প্রথম দফার ভোটের শতাংশের হার বিজেপিকে চিন্তায় রেখেছে। সেই চিন্তা দূর করাই ওই অনাবশ্যক বিতর্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্য বলে বিরোধীদের অভিযোগ। এদিকে তীব্র তাপদাহের মধ্যেই ভারতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির অনেক স্থানে গরমে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও। তবে কর্ণাটক ও কেরালার কিছু অংশে আগামী দু-তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় গরম কিছুটা কম থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

 

এরই মধ্যে গত বুধবার দ্বিতীয় ধাপের ভোটের প্রচারাভিযান শেষ হয়েছে। এই ধাপে পশ্চিমবঙ্গসহ ১২টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৮৯টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই ধাপে মণিপুরের ২০টি, কেরালার ২০টি, কর্ণাটকের ১৪টি, রাজস্থানের ১৩টি, উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের ৮টি করে, মধ্যপ্রদেশের ৭টি, আসাম ও বিহারের ৫টি করে, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড়ে ৩টি করে এবং ত্রিপুরা ও জম্মু-কাশ্মীরের ১টি করে আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি লোকসভা আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে আজ। সেগুলো হলোÑ দার্জিলিং, বালুরঘাট ও রায়গঞ্জ। এই ধাপে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৫ হাজার ২৯৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। মোতায়েন করা হবে ২৭২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই সঙ্গে থাকবে ১২ হাজার ৯৮৩ জন রাজ্য পুলিশ। দার্জিলিংয়ে ৭৩৯টি স্পর্শকাতর বুথ আছে। সেখানে ৮৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। রায়গঞ্জে আছে ২১০টি স্পর্শকাতর বুথ। সেখানে ১১১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। বালুরঘাটে স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ১৯২টি। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে ৭৩ কোম্পানি।

 

 

গত শুক্রবার প্রথম দফায় ভোট হয়েছিল রাজস্থানের ১২ আসনে। শুক্রবার বাকি ১৩ আসনে ভোট। এই রাজ্যেও বিজেপি গেলবার সব কটি আসন জিতেছিল। সেই রেকর্ড ধরে রাখা এবার তাদের চ্যালেঞ্জ। ভোট হবে মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশের ৮টি করে আসনেও। সেই সঙ্গে ভোট মধ্যপ্রদেশের ৭, বিহার ও আসামের ৫টি করে আসনেও। ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গের ৩টি করে আসনেও ভোট শুক্রবার। এর বাইরে মণিপুর, ত্রিপুরা ও জম্মু-কাশ্মীরের একটি করে আসনে ভোটগ্রহণ হবে। কেরালা, কর্ণাটক ও পশ্চিমবঙ্গ বাদ দিলে বাকি সব রাজ্যেই বিজেপি হয় একা অথবা সঙ্গীদের নিয়ে ক্ষমতায়।

 

 

 

এদিকে লোকসভা নির্বাচনে প্রথম ধাপে ভোটের হার ছিল অপেক্ষাকৃত কম। এবার দ্বিতীয় ধাপেও ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে বলে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। আজ ভারতে সাত ধাপে লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বৃষ্টি, বন্যা, তীব্র তাপদাহসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ভারতের ১২টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৮৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। এ ধাপে ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে বিরোধী কংগ্রেস জোটের শক্ত লড়াই আশা করা হচ্ছে। এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কর্ণাটকের ওয়েনাড আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এ ছাড়া কংগ্রেসের শশী থারুর, বিজেপির হেমা মালিনীসহ হেভিওয়েট অনেক নেতার ভাগ্য নির্ধারণ হবে। প্রথম ধাপে ১৯ এপ্রিল ২১ রাজ্যের ১০২ আসনে প্রথম ধাপের ভোট হয়। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের হার ছিল ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের মধ্যে, যা গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় কম। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে ওয়েদার ডটকম জানায়, মহারাষ্ট্র থেকে কেরালা পর্যন্ত প্রবাহিত হচ্ছে বাতাস, যা চলতি সপ্তাহে কেরালা, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও তামিলনাড়ুতে মাঝারি আকারের বৃষ্টি ঘটাতে পারে। সে ক্ষেত্রে এসব অঞ্চলের ভোটারদের কাল ছাতা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হতে পারে। বৃষ্টি প্রবল হলে দেখা দিতে পারে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুতে প্রবল বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনোর প্রভাবে গরম বেড়েছে বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদরা।

 

 

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আরচণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন-ইসি। গতকাল ইসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে নোটিস দিয়ে দুই নেতার প্রতিক্রিয়া বা জবাব চাওয়া হয়েছে। মোদি ও রাহুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুই নেতার দল থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশও জানানো হয়। এরপরই তাদেরকে সতর্ক করে নোটিস পাঠায় কমিশন। এ বিষয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়েগকে চিঠি পাঠিয়ে জবাব চেয়েছে ইসি। আগামী ২৯ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে সেই জবাব দিতে হবে।

 

 

 

এদিকে ভারতে এবারের লোকসভা নির্বাচনে সাত দফায় ভোট গ্রহণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার ত্রাণকর্তা হিসেবে নির্বাচনে লড়ার কৌশল বেছে নিয়েছেন। এটা স্পষ্ট করা হয়েছে, হিন্দুদের স্বার্থের সুরক্ষা মানে মুসলমানদের কাছ থেকে তাদের সুরক্ষিত রাখা। মোদি ও বিজেপির মতে, মুসলমানদের সঙ্গে মিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বিরোধী দল কংগ্রেস। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো হিন্দুদের সম্পদ ও অধিকার কেড়ে নিয়ে মুসলমানদের হাতে তুলে দেওয়া। এ জন্য ভারতীয় ভূখণ্ডে হিন্দুরা বিপদের মুখে রয়েছেন। গত রোববার রাজস্থান রাজ্যে একটি নির্বাচনী সমাবেশে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘যদি বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা হিন্দুদের সম্পত্তি কেড়ে নেবে। যাদের বেশি সন্তান রয়েছে, তাদের সেই সম্পত্তি দিয়ে দেবে।’ স্পষ্টতই মুসলিমদের প্রতি ইঙ্গিত করে এ মন্তব্য করেন মোদি। তিনি মুসলমানদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ভারতে অনেকের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। মোদির মন্তব্যকে ‘ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতজুড়ে অনেক নাগরিক ও অধিকার সংগঠন তার (মোদির) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে আবেদন জানিয়েছে। অধিকার সংগঠন পিপলস ইউনিয়ন অব সিভিল লিবার্টিজ বলছে, প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। এত বিতর্ক-সমালোচনা মোদিকে দমাতে পারেনি। দুদিন পর গত মঙ্গলবার রাজস্থান রাজ্যে আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে মোদি আবারও দাবি করেন, কংগ্রেস ভারতজুড়ে হিন্দুদের সম্পত্তি হস্তগত করা ও সেসব ‘নির্ধারিত’ মানুষের মধ্যে বিতরণ করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে।

 

 

 

 

শুধু কি তা-ই, মোদি আরো অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস শিক্ষা, চাকরি, সরকারি প্রকল্প থেকে অনগ্রসর শ্রেণি, তফসিলি জাতিগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের জন্য নির্ধারিত কোটা কেড়ে নেবে। সেসব কোটা দেওয়া হবে মুসলমানদের। এর মধ্য দিয়ে মোদি স্পষ্টত পিছিয়ে পড়া হিন্দু ও দলিতদের ভোট বিজেপির বাক্সে টানার চেষ্টা করেছেন।

বিতর্ক নিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোট আজ

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪

◉ বন্যা-তাপদাহে কম ভোট পড়ার শঙ্কা
◉ নরেন্দ্র মোদি ও রাহুল গান্ধীকে ইসির নোটিস
◉ মুসলমানদের বিরুদ্ধে কেন আক্রমণ মোদির

তুমুল বিতর্ককে সঙ্গী করে শুরু হচ্ছে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। ক্ষমতায় এলে কংগ্রেস দেশের সম্পদ মুসলমানদের মধ্যে বাঁটোয়ারা করে দেবে জানিয়ে সেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই। কদিন ধরেই ওই বিতর্ক ঘিরে ভোটের রাজনীতি সরগরম। এই বিতর্ক দ্বিতীয় দফার ভোটে হিন্দুত্ববাদীদের বেশি করে ভোটদানে উৎসাহিত করে দেশব্যাপী ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটায় কি না, সেটাই হতে চলেছে প্রধান দ্রষ্টব্য। প্রথম দফার ভোটের শতাংশের হার বিজেপিকে চিন্তায় রেখেছে। সেই চিন্তা দূর করাই ওই অনাবশ্যক বিতর্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্য বলে বিরোধীদের অভিযোগ। এদিকে তীব্র তাপদাহের মধ্যেই ভারতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির অনেক স্থানে গরমে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও। তবে কর্ণাটক ও কেরালার কিছু অংশে আগামী দু-তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় গরম কিছুটা কম থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

 

এরই মধ্যে গত বুধবার দ্বিতীয় ধাপের ভোটের প্রচারাভিযান শেষ হয়েছে। এই ধাপে পশ্চিমবঙ্গসহ ১২টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৮৯টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই ধাপে মণিপুরের ২০টি, কেরালার ২০টি, কর্ণাটকের ১৪টি, রাজস্থানের ১৩টি, উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের ৮টি করে, মধ্যপ্রদেশের ৭টি, আসাম ও বিহারের ৫টি করে, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড়ে ৩টি করে এবং ত্রিপুরা ও জম্মু-কাশ্মীরের ১টি করে আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি লোকসভা আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে আজ। সেগুলো হলোÑ দার্জিলিং, বালুরঘাট ও রায়গঞ্জ। এই ধাপে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৫ হাজার ২৯৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। মোতায়েন করা হবে ২৭২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই সঙ্গে থাকবে ১২ হাজার ৯৮৩ জন রাজ্য পুলিশ। দার্জিলিংয়ে ৭৩৯টি স্পর্শকাতর বুথ আছে। সেখানে ৮৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। রায়গঞ্জে আছে ২১০টি স্পর্শকাতর বুথ। সেখানে ১১১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। বালুরঘাটে স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ১৯২টি। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে ৭৩ কোম্পানি।

 

 

গত শুক্রবার প্রথম দফায় ভোট হয়েছিল রাজস্থানের ১২ আসনে। শুক্রবার বাকি ১৩ আসনে ভোট। এই রাজ্যেও বিজেপি গেলবার সব কটি আসন জিতেছিল। সেই রেকর্ড ধরে রাখা এবার তাদের চ্যালেঞ্জ। ভোট হবে মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশের ৮টি করে আসনেও। সেই সঙ্গে ভোট মধ্যপ্রদেশের ৭, বিহার ও আসামের ৫টি করে আসনেও। ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গের ৩টি করে আসনেও ভোট শুক্রবার। এর বাইরে মণিপুর, ত্রিপুরা ও জম্মু-কাশ্মীরের একটি করে আসনে ভোটগ্রহণ হবে। কেরালা, কর্ণাটক ও পশ্চিমবঙ্গ বাদ দিলে বাকি সব রাজ্যেই বিজেপি হয় একা অথবা সঙ্গীদের নিয়ে ক্ষমতায়।

 

 

 

এদিকে লোকসভা নির্বাচনে প্রথম ধাপে ভোটের হার ছিল অপেক্ষাকৃত কম। এবার দ্বিতীয় ধাপেও ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে বলে পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। আজ ভারতে সাত ধাপে লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বৃষ্টি, বন্যা, তীব্র তাপদাহসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ভারতের ১২টি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৮৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ। এ ধাপে ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে বিরোধী কংগ্রেস জোটের শক্ত লড়াই আশা করা হচ্ছে। এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কর্ণাটকের ওয়েনাড আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এ ছাড়া কংগ্রেসের শশী থারুর, বিজেপির হেমা মালিনীসহ হেভিওয়েট অনেক নেতার ভাগ্য নির্ধারণ হবে। প্রথম ধাপে ১৯ এপ্রিল ২১ রাজ্যের ১০২ আসনে প্রথম ধাপের ভোট হয়। ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটের হার ছিল ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশের মধ্যে, যা গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় কম। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে ওয়েদার ডটকম জানায়, মহারাষ্ট্র থেকে কেরালা পর্যন্ত প্রবাহিত হচ্ছে বাতাস, যা চলতি সপ্তাহে কেরালা, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও তামিলনাড়ুতে মাঝারি আকারের বৃষ্টি ঘটাতে পারে। সে ক্ষেত্রে এসব অঞ্চলের ভোটারদের কাল ছাতা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হতে পারে। বৃষ্টি প্রবল হলে দেখা দিতে পারে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুতে প্রবল বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনোর প্রভাবে গরম বেড়েছে বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদরা।

 

 

অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আরচণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন-ইসি। গতকাল ইসি জানিয়েছে, এ বিষয়ে নোটিস দিয়ে দুই নেতার প্রতিক্রিয়া বা জবাব চাওয়া হয়েছে। মোদি ও রাহুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুই নেতার দল থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশও জানানো হয়। এরপরই তাদেরকে সতর্ক করে নোটিস পাঠায় কমিশন। এ বিষয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়েগকে চিঠি পাঠিয়ে জবাব চেয়েছে ইসি। আগামী ২৯ এপ্রিল সকাল ১১টার মধ্যে সেই জবাব দিতে হবে।

 

 

 

এদিকে ভারতে এবারের লোকসভা নির্বাচনে সাত দফায় ভোট গ্রহণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার ত্রাণকর্তা হিসেবে নির্বাচনে লড়ার কৌশল বেছে নিয়েছেন। এটা স্পষ্ট করা হয়েছে, হিন্দুদের স্বার্থের সুরক্ষা মানে মুসলমানদের কাছ থেকে তাদের সুরক্ষিত রাখা। মোদি ও বিজেপির মতে, মুসলমানদের সঙ্গে মিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বিরোধী দল কংগ্রেস। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো হিন্দুদের সম্পদ ও অধিকার কেড়ে নিয়ে মুসলমানদের হাতে তুলে দেওয়া। এ জন্য ভারতীয় ভূখণ্ডে হিন্দুরা বিপদের মুখে রয়েছেন। গত রোববার রাজস্থান রাজ্যে একটি নির্বাচনী সমাবেশে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘যদি বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা হিন্দুদের সম্পত্তি কেড়ে নেবে। যাদের বেশি সন্তান রয়েছে, তাদের সেই সম্পত্তি দিয়ে দেবে।’ স্পষ্টতই মুসলিমদের প্রতি ইঙ্গিত করে এ মন্তব্য করেন মোদি। তিনি মুসলমানদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ভারতে অনেকের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। মোদির মন্তব্যকে ‘ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতজুড়ে অনেক নাগরিক ও অধিকার সংগঠন তার (মোদির) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে আবেদন জানিয়েছে। অধিকার সংগঠন পিপলস ইউনিয়ন অব সিভিল লিবার্টিজ বলছে, প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। এত বিতর্ক-সমালোচনা মোদিকে দমাতে পারেনি। দুদিন পর গত মঙ্গলবার রাজস্থান রাজ্যে আরেকটি নির্বাচনী সমাবেশে মোদি আবারও দাবি করেন, কংগ্রেস ভারতজুড়ে হিন্দুদের সম্পত্তি হস্তগত করা ও সেসব ‘নির্ধারিত’ মানুষের মধ্যে বিতরণ করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে।

 

 

 

 

শুধু কি তা-ই, মোদি আরো অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস শিক্ষা, চাকরি, সরকারি প্রকল্প থেকে অনগ্রসর শ্রেণি, তফসিলি জাতিগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের জন্য নির্ধারিত কোটা কেড়ে নেবে। সেসব কোটা দেওয়া হবে মুসলমানদের। এর মধ্য দিয়ে মোদি স্পষ্টত পিছিয়ে পড়া হিন্দু ও দলিতদের ভোট বিজেপির বাক্সে টানার চেষ্টা করেছেন।