১১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে চলছে ১৫ হাজার গাছ কাটার আয়োজন 

মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে আঞ্চলিক সড়কের পাশে ১৫ হাজার ২৪২টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে নিলাম প্রক্রিয়ার জন্য ওই গাছগুলোর গায়ে ‘নাম্বারিং’ করা হয়। প্রক্রিয়া শেষ হলেই এ বিপুল গাছ কাটা পড়বে।
একদিকে তীব্র দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে সরকার সারাদেশে গাছ রোপণের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। অপরদিকে লক্ষ্মীপুরে সড়ক প্রশস্তকরণের নামে চলছে গাছ ‘হত্যার’ আয়োজন।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর, রামগতি ও রামগঞ্জ উপজেলার ১৫ হাজার ২৪২টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এরইমধ্যে গাছগুলোর নাম্বারিং শেষ হয়েছে। নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হলেই সদর-কমলনগর ও রামগতি উপজেলার লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের পাশের ১৩ হাজার ৪৪৫টি, রামগতি উপজেলার বিভিন্ন সড়কের ১ হাজার ৬৭২টি ও রামগঞ্জে ১২৫টি গাছ কাটা হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সুপারিশের প্রেক্ষিতে জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি গাছগুলো কাটার অনুমোদন দিয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, ২০০৫ সালে বনবিভাগ লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের দু’পাশে বিভিন্ন ফলদ-বনজ ও ওষুধী গাছগুলো রোপণকরে। গাছের ছায়ার কারণে এ সড়কটি সবসময় শীতল আবহে থাকে। এছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ নানা উপকারে আসে গাছগুলো। প্রায় ১৯ বছরে গাছগুলো পরিপক্ব হয়েছে। ডালপালার প্রসার ঘটে সবুজ-শ্যামল পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সড়কে যাতায়াত করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সংযোগকারী সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের আওতাধীন লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মাইজদী সড়কটি ৫.৫০ মিটার থেকে ৭.৩০ মিটার প্রশস্ততায় সম্প্রসারণ করা হবে। লক্ষ্মীপুর অংশে (লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ক) ৫৪ কিলোমিটার সড়কে বনবিভাগের লাগানো গাছ রয়েছে। সেগুলো কাটার জন্য বনবিভাগকে গত বছর নভেম্বরে লক্ষ্মীপুর সওজ বিভাগ চিঠি দেয়। এ সড়কে ২০০৫ সালের দিকে বনবিভাগের রোপন করা গাছের সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৪৫টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উন্নয়নের নামে প্রায় ৫ বছর আগে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুইপাশে থাকা শতবর্ষীসহ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একইভাবে ২০২০ সালে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল জাতীয় সড়কের (মজুচৌধুরীর হাট সড়ক) পাশের থাকা প্রায় ৫ হাজার গাছ কাটা হয়েছে। এখন এ দুটি সড়কে বড় কোনো গাছ নেই। সম্প্রতি মজুচৌধুরীর হাট সড়কের একটি অংশে বনবিভাগ কিছু গাছ লাগিয়েছে। তবে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী সড়কের লক্ষ্মীপুর জেলা অংশে এখনো কোনো গাছ লাগানো হয়নি। এসব সড়কে যাতায়াতে প্রচণ্ড দাবদাহ সহ্য করতে হয় পথচারীসহ যানবাহনের যাত্রীদের। তবে সওজ সড়কের পাশে বনায়নের অনুমতি দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ বনবিভাগের।

লক্ষ্মীপুরে চলছে ১৫ হাজার গাছ কাটার আয়োজন 

আপডেট সময় : ০৬:২৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪
মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে আঞ্চলিক সড়কের পাশে ১৫ হাজার ২৪২টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে নিলাম প্রক্রিয়ার জন্য ওই গাছগুলোর গায়ে ‘নাম্বারিং’ করা হয়। প্রক্রিয়া শেষ হলেই এ বিপুল গাছ কাটা পড়বে।
একদিকে তীব্র দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে সরকার সারাদেশে গাছ রোপণের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে। অপরদিকে লক্ষ্মীপুরে সড়ক প্রশস্তকরণের নামে চলছে গাছ ‘হত্যার’ আয়োজন।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর, রামগতি ও রামগঞ্জ উপজেলার ১৫ হাজার ২৪২টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এরইমধ্যে গাছগুলোর নাম্বারিং শেষ হয়েছে। নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হলেই সদর-কমলনগর ও রামগতি উপজেলার লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের পাশের ১৩ হাজার ৪৪৫টি, রামগতি উপজেলার বিভিন্ন সড়কের ১ হাজার ৬৭২টি ও রামগঞ্জে ১২৫টি গাছ কাটা হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সুপারিশের প্রেক্ষিতে জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি গাছগুলো কাটার অনুমোদন দিয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, ২০০৫ সালে বনবিভাগ লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের দু’পাশে বিভিন্ন ফলদ-বনজ ও ওষুধী গাছগুলো রোপণকরে। গাছের ছায়ার কারণে এ সড়কটি সবসময় শীতল আবহে থাকে। এছাড়াও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ নানা উপকারে আসে গাছগুলো। প্রায় ১৯ বছরে গাছগুলো পরিপক্ব হয়েছে। ডালপালার প্রসার ঘটে সবুজ-শ্যামল পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সড়কে যাতায়াত করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সংযোগকারী সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের আওতাধীন লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মাইজদী সড়কটি ৫.৫০ মিটার থেকে ৭.৩০ মিটার প্রশস্ততায় সম্প্রসারণ করা হবে। লক্ষ্মীপুর অংশে (লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়ক) ৫৪ কিলোমিটার সড়কে বনবিভাগের লাগানো গাছ রয়েছে। সেগুলো কাটার জন্য বনবিভাগকে গত বছর নভেম্বরে লক্ষ্মীপুর সওজ বিভাগ চিঠি দেয়। এ সড়কে ২০০৫ সালের দিকে বনবিভাগের রোপন করা গাছের সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৪৫টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উন্নয়নের নামে প্রায় ৫ বছর আগে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুইপাশে থাকা শতবর্ষীসহ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একইভাবে ২০২০ সালে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল জাতীয় সড়কের (মজুচৌধুরীর হাট সড়ক) পাশের থাকা প্রায় ৫ হাজার গাছ কাটা হয়েছে। এখন এ দুটি সড়কে বড় কোনো গাছ নেই। সম্প্রতি মজুচৌধুরীর হাট সড়কের একটি অংশে বনবিভাগ কিছু গাছ লাগিয়েছে। তবে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী সড়কের লক্ষ্মীপুর জেলা অংশে এখনো কোনো গাছ লাগানো হয়নি। এসব সড়কে যাতায়াতে প্রচণ্ড দাবদাহ সহ্য করতে হয় পথচারীসহ যানবাহনের যাত্রীদের। তবে সওজ সড়কের পাশে বনায়নের অনুমতি দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ বনবিভাগের।