০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কান্নার প্রহর শেষে ঘরে ঘরে আনন্দ

 

সোমালিয়া জলদস্যুদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ দীর্ঘ দুই মাস পর ঝড়-ঝঞ্ঝা সামলিয়ে অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। এরপর বন্দরের জেটিতে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে স্বজনদের কাছে ফিরেছেন টানা ৩৩ দিনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নেওয়া এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিক। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দৈনিক সবুজ বাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জাহাজটির মালিকপক্ষ ও নাবিকদের স্বজনেরা।

জাহাজটির মালকানা প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, দীর্ঘ দুই মাস পর অপেক্ষার প্রহর ফুরিয়ে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলেপড়া ২৩ নাবিকসহ সুস্থ অবস্থায় গত সোমবার বিকালে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে এমভি আবদুল্লাহ। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে কুতুবদিয়ায় নোঙর করে জাহাজটি। এর আগে ওই জাহাটির দায়িত্ব নিতে ও জিম্মিদশা থেকে মুক্ত ২৩ নাবিককে চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরিয়ে আনতে ২৩ জনের অপর একটি দল কেএসআরএম’র এমভি জাহান মনি-৩ যোগে গত সোমবার কুতুবদিয়ার জেটির উদ্দেশে রওনা করে। রাতে সেই জাহাজটি কুতুবদিয়া জেটিতে পৌঁছে এবং নতুন দলটি জাহাজের দায়িত্ব বুঝে নেন জিম্মিদশা থেকে মুক্ত ২৩ নাবিকের কাছ থেকে। পরবর্তী সময়ে এমভি জাহান মনি-৩ যোগে চট্টগ্রাম সদরঘাট বন্দরের উদ্দেশে রওনা করেন ২৩ নাবিক।

জিম্মিদশা থেকে মুক্ত ২৩ জন নাবিককে বরণে বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাহাজটির মালিকপক্ষ বেশকিছু আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-১ (এনসিটি) নম্বরে এসে পৌঁছান নাবিকরা। তখন নাবিকদের নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেখানে। স্বজনদের পাশাপাশি কেএসআরএমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মিজানুল ইসলাম বলেন, অবশেষে জাহাজের নাবিকরা বিকাল ৪টার দিকে চট্টগ্রামে ফিরেছে। সব শঙ্কা কাটিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে নাবিকরা নিজ দেশে ফিরে আসায় আমরাও আনন্দবোধ করছি। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে স্বজন-পরিবারের অনেকেই এসেছিলেন। এ সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মালিকপক্ষসহ বিপুল উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পরিবারের স্বজনরাও তাদের বরণ করে নেন। এরপর সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফুল দিয়ে বরণপর্ব শেষে বিকালেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান নাবিকেরা। তাদের বাড়ি ফিরতে যেন কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিজ নিজ বাড়ি ফেরা পর্যন্ত আমরা তাদের খোঁজখবর রেখেছি। সুস্থ অবস্থায় তাদের ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নাবিকদের বরণ করে নিতে বন্দর জেটিতে গতকাল বিকালে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল। এ সময় নাবিকদের স্বজন ও কেএসআরএম গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত ছিলেন।

এমভি আব্দুল্লাহর চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খানের ছোট ভাই আবদুর নূর খান আসিফ দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমরা যে কতটা খুশি, তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। নাবিকদের প্রতিটি পরিবারের সবাই এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে সেই শুভক্ষণ এসেছে। এজন্য জাহাজটির মালিকপক্ষ, সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।

কেএসআরএম গ্রুপ জানায়, এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে ৫৬ হাজার টন চুনাপাথরের পণ্য রয়েছে। এতে প্রায় ১৯০ মিটার লম্বা জাহাজটির ড্রাফট (জাহাজের পানির নিচের অংশের গভীরতার পরিমাপ) বেড়ে হয়েছে সাড়ে ১২ মিটার। জাহাজটির ড্রাফট বেশি থাকায় কুতুবদিয়ায় প্রথমে কিছু পরিমাণ পণ্য খালাস করে। এরপর পতেঙ্গার কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে বন্দর জলসীমায় আনা হয়। সেখানে বাকি পণ্য খালাস করা হবে। এজন্য দেশে পৌঁছার পরও নাবিকদের ঘরে ফিরতে একটু সময় লেগেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে পৌঁছালে ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ সোমালিয়া জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এরপর অস্ত্রের মুখে দস্যুরা জিম্মি করে জাহাজটিকে সোমালিয়া উপকূলে নিজেদের ডেরায় নিয়ে যায়। ৩৩ দিনের জিম্মি জীবন পার করার পর গত ১৩ এপ্রিল মুক্তিপণের অর্থ দিয়ে জিম্মি জাহাজসহ ছাড়া পান ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা পাওয়া ২৩ নাবিক। মুক্ত হওয়ার পরপরই ১ হাজার ৪৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা আরব আমিরাতের আল-হামরিয়া বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয় এমভি আবদুল্লাহ। কড়া নিরাপত্তা দিয়ে জাহাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা পার করে দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুইটি যুদ্ধজাহাজ ও তিনটি টহল জাহাজ। গত ২১ এপ্রিল এমভি আবদুল্লাহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে পৌঁছায়।

সেখানে কার্গো খালাস করে জাহাজটি মিনা সাকার বন্দরে নোঙর করে। এরপর সেখান থেকে কার্গো লোড করে অবশেষে দেশের উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। সব শঙ্কা কাটিয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় কুতুবদিয়ায় নোঙর করে জাহাজটি। এ হিসেবে আমিরাত থেকে ১৩ দিনের মাথায় জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছাল। সব মিলিয়ে ৬৫ দিন পর মুক্ত নাবিকরা চট্টগ্রামে পৌঁছে নিজ নিজ পরিবারের মাঝে ফিরেছেন। এর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে আরব সাগরে সোমালিয় জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল বাংলাদেশি জাহাজ এমভি জাহান মণি। ওই সময় জাহাজের ২৫ নাবিক এবং প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রীকে জিম্মি করা হয়। নানা তৎপরতার পর ১০০ দিনের চেষ্টায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পান তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

কান্নার প্রহর শেষে ঘরে ঘরে আনন্দ

আপডেট সময় : ০৭:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪

 

সোমালিয়া জলদস্যুদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ দীর্ঘ দুই মাস পর ঝড়-ঝঞ্ঝা সামলিয়ে অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। এরপর বন্দরের জেটিতে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে স্বজনদের কাছে ফিরেছেন টানা ৩৩ দিনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নেওয়া এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিক। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দৈনিক সবুজ বাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জাহাজটির মালিকপক্ষ ও নাবিকদের স্বজনেরা।

জাহাজটির মালকানা প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, দীর্ঘ দুই মাস পর অপেক্ষার প্রহর ফুরিয়ে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলেপড়া ২৩ নাবিকসহ সুস্থ অবস্থায় গত সোমবার বিকালে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছে এমভি আবদুল্লাহ। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে কুতুবদিয়ায় নোঙর করে জাহাজটি। এর আগে ওই জাহাটির দায়িত্ব নিতে ও জিম্মিদশা থেকে মুক্ত ২৩ নাবিককে চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরিয়ে আনতে ২৩ জনের অপর একটি দল কেএসআরএম’র এমভি জাহান মনি-৩ যোগে গত সোমবার কুতুবদিয়ার জেটির উদ্দেশে রওনা করে। রাতে সেই জাহাজটি কুতুবদিয়া জেটিতে পৌঁছে এবং নতুন দলটি জাহাজের দায়িত্ব বুঝে নেন জিম্মিদশা থেকে মুক্ত ২৩ নাবিকের কাছ থেকে। পরবর্তী সময়ে এমভি জাহান মনি-৩ যোগে চট্টগ্রাম সদরঘাট বন্দরের উদ্দেশে রওনা করেন ২৩ নাবিক।

জিম্মিদশা থেকে মুক্ত ২৩ জন নাবিককে বরণে বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাহাজটির মালিকপক্ষ বেশকিছু আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-১ (এনসিটি) নম্বরে এসে পৌঁছান নাবিকরা। তখন নাবিকদের নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেখানে। স্বজনদের পাশাপাশি কেএসআরএমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মিজানুল ইসলাম বলেন, অবশেষে জাহাজের নাবিকরা বিকাল ৪টার দিকে চট্টগ্রামে ফিরেছে। সব শঙ্কা কাটিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে নাবিকরা নিজ দেশে ফিরে আসায় আমরাও আনন্দবোধ করছি। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিতে স্বজন-পরিবারের অনেকেই এসেছিলেন। এ সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মালিকপক্ষসহ বিপুল উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পরিবারের স্বজনরাও তাদের বরণ করে নেন। এরপর সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফুল দিয়ে বরণপর্ব শেষে বিকালেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান নাবিকেরা। তাদের বাড়ি ফিরতে যেন কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিজ নিজ বাড়ি ফেরা পর্যন্ত আমরা তাদের খোঁজখবর রেখেছি। সুস্থ অবস্থায় তাদের ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নাবিকদের বরণ করে নিতে বন্দর জেটিতে গতকাল বিকালে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল। এ সময় নাবিকদের স্বজন ও কেএসআরএম গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত ছিলেন।

এমভি আব্দুল্লাহর চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খানের ছোট ভাই আবদুর নূর খান আসিফ দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, আমরা যে কতটা খুশি, তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। নাবিকদের প্রতিটি পরিবারের সবাই এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে সেই শুভক্ষণ এসেছে। এজন্য জাহাজটির মালিকপক্ষ, সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।

কেএসআরএম গ্রুপ জানায়, এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে ৫৬ হাজার টন চুনাপাথরের পণ্য রয়েছে। এতে প্রায় ১৯০ মিটার লম্বা জাহাজটির ড্রাফট (জাহাজের পানির নিচের অংশের গভীরতার পরিমাপ) বেড়ে হয়েছে সাড়ে ১২ মিটার। জাহাজটির ড্রাফট বেশি থাকায় কুতুবদিয়ায় প্রথমে কিছু পরিমাণ পণ্য খালাস করে। এরপর পতেঙ্গার কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে বন্দর জলসীমায় আনা হয়। সেখানে বাকি পণ্য খালাস করা হবে। এজন্য দেশে পৌঁছার পরও নাবিকদের ঘরে ফিরতে একটু সময় লেগেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে পৌঁছালে ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ সোমালিয়া জলদস্যুদের কবলে পড়ে। এরপর অস্ত্রের মুখে দস্যুরা জিম্মি করে জাহাজটিকে সোমালিয়া উপকূলে নিজেদের ডেরায় নিয়ে যায়। ৩৩ দিনের জিম্মি জীবন পার করার পর গত ১৩ এপ্রিল মুক্তিপণের অর্থ দিয়ে জিম্মি জাহাজসহ ছাড়া পান ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা পাওয়া ২৩ নাবিক। মুক্ত হওয়ার পরপরই ১ হাজার ৪৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা আরব আমিরাতের আল-হামরিয়া বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয় এমভি আবদুল্লাহ। কড়া নিরাপত্তা দিয়ে জাহাজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা পার করে দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুইটি যুদ্ধজাহাজ ও তিনটি টহল জাহাজ। গত ২১ এপ্রিল এমভি আবদুল্লাহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে পৌঁছায়।

সেখানে কার্গো খালাস করে জাহাজটি মিনা সাকার বন্দরে নোঙর করে। এরপর সেখান থেকে কার্গো লোড করে অবশেষে দেশের উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। সব শঙ্কা কাটিয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় কুতুবদিয়ায় নোঙর করে জাহাজটি। এ হিসেবে আমিরাত থেকে ১৩ দিনের মাথায় জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছাল। সব মিলিয়ে ৬৫ দিন পর মুক্ত নাবিকরা চট্টগ্রামে পৌঁছে নিজ নিজ পরিবারের মাঝে ফিরেছেন। এর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে আরব সাগরে সোমালিয় জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল বাংলাদেশি জাহাজ এমভি জাহান মণি। ওই সময় জাহাজের ২৫ নাবিক এবং প্রধান প্রকৌশলীর স্ত্রীকে জিম্মি করা হয়। নানা তৎপরতার পর ১০০ দিনের চেষ্টায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পান তারা।