০১:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুর ১ আসনের সাংসদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

 রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও রংপুর সিটি আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অপেক্ষা করে তিনি প্রকাশ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিনের (কাপ-পিরিচ প্রতীক) পক্ষে কাজ করছেন। এমন একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন সুজন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগও দিয়েছেন তিনি।
মোকারম হোসেন সুজন বর্তমানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা। তিনি রংপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য ছিলেন। আর রুহুল আমিন গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এমপি আসাদুজ্জামান বাবলু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের কাপ-পিরিচ প্রতীকে ভোট করতে মাঠে নেমেছেন। এমপির প্রতিনিধি আব্দুল মতিনও রুহুল আমিনের পক্ষে জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার নির্দেশনায় তার কর্মী সমর্থকরাও রুহুল আমিনের কাপ পিরিচের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আসাদুজ্জামান বাবলু একজন সংসদ সদস্য হয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা না মেনে ভোটকে প্রশ্নবিদ করছেন। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতির পাশাপাশি ভোটদানে অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে পুরো উপজেলা জুড়ে ।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন সবুজ বাংলা’কে বলেন, এমপি আসাদুজ্জামান বাবলু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানছেন না। তিনি রুহুল আমিনের পক্ষে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করছেন। একজন সংসদ সদস্য হয়ে রুহুল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারে নেমেছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর (এমপি) প্রভাবের কারণে ২৯ মে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মঞ্চে এমপি আসাদুজ্জামান বাবলু ও রুহুল আমিন পাশাপাশি বসা। পরে আসাদুজ্জামান বাবলু মাইক হাতে বলেন, ‘উনি (রুহুল আমীন)
একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। আমার জন্মের আগেও উনি উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। এবার আমি এমপি হয়েছি, উনি উপজেলা চেয়ারম্যান। এর আগে আমার সঙ্গে উনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছিলেন ২০১৪ সালে। আমরা চাচা- ভাতিজা। আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম। উনি নির্বাচিত হতে পারেন নাই। পরের বার (২০১৮) আমি নির্বাচন করি নাই। উনি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও নির্বাচন করছেন। আমি আশা করি সবাই ওনাকে সহযোগিতা করবেন।
অভিযোগের বিষয়ে এমপি আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘আমি কেন কারও পক্ষে ভোট চাইতে যাব? আমি এখন পর্যন্ত কারও পক্ষে ভোট চাইনি। জামায়াত-বিএনপির কাজই হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করা। তারা কীভাবে এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে, তারই চেষ্টা এটা। আমি আশা করব, তিনি যেন এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা না ছড়িয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চান। তাহলে ২৯ মে ভোটাররা তাঁদের ভোটের মাধ্যমেই সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করবেন।’
ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না বলেন, ‘প্রার্থী মোকাররম হোসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবার অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের অনুলিপি আমাকেও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

রংপুর ১ আসনের সাংসদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:২১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪
 রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও রংপুর সিটি আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অপেক্ষা করে তিনি প্রকাশ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমিনের (কাপ-পিরিচ প্রতীক) পক্ষে কাজ করছেন। এমন একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন সুজন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর অভিযোগও দিয়েছেন তিনি।
মোকারম হোসেন সুজন বর্তমানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা। তিনি রংপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য ছিলেন। আর রুহুল আমিন গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এমপি আসাদুজ্জামান বাবলু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের কাপ-পিরিচ প্রতীকে ভোট করতে মাঠে নেমেছেন। এমপির প্রতিনিধি আব্দুল মতিনও রুহুল আমিনের পক্ষে জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার নির্দেশনায় তার কর্মী সমর্থকরাও রুহুল আমিনের কাপ পিরিচের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আসাদুজ্জামান বাবলু একজন সংসদ সদস্য হয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা না মেনে ভোটকে প্রশ্নবিদ করছেন। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতির পাশাপাশি ভোটদানে অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে পুরো উপজেলা জুড়ে ।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন সবুজ বাংলা’কে বলেন, এমপি আসাদুজ্জামান বাবলু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানছেন না। তিনি রুহুল আমিনের পক্ষে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করছেন। একজন সংসদ সদস্য হয়ে রুহুল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারে নেমেছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর (এমপি) প্রভাবের কারণে ২৯ মে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মঞ্চে এমপি আসাদুজ্জামান বাবলু ও রুহুল আমিন পাশাপাশি বসা। পরে আসাদুজ্জামান বাবলু মাইক হাতে বলেন, ‘উনি (রুহুল আমীন)
একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। আমার জন্মের আগেও উনি উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। এবার আমি এমপি হয়েছি, উনি উপজেলা চেয়ারম্যান। এর আগে আমার সঙ্গে উনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছিলেন ২০১৪ সালে। আমরা চাচা- ভাতিজা। আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম। উনি নির্বাচিত হতে পারেন নাই। পরের বার (২০১৮) আমি নির্বাচন করি নাই। উনি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও নির্বাচন করছেন। আমি আশা করি সবাই ওনাকে সহযোগিতা করবেন।
অভিযোগের বিষয়ে এমপি আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘আমি কেন কারও পক্ষে ভোট চাইতে যাব? আমি এখন পর্যন্ত কারও পক্ষে ভোট চাইনি। জামায়াত-বিএনপির কাজই হচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করা। তারা কীভাবে এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে, তারই চেষ্টা এটা। আমি আশা করব, তিনি যেন এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা না ছড়িয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চান। তাহলে ২৯ মে ভোটাররা তাঁদের ভোটের মাধ্যমেই সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করবেন।’
ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাহিদ তামান্না বলেন, ‘প্রার্থী মোকাররম হোসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবার অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের অনুলিপি আমাকেও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।