গাইবান্ধায় কয়েক দিনের টানা তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রচন্ড রোদের সঙ্গে ভ্যাপসা গরমে জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সাথে বাড়ছে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা। গাইবান্ধা শহরের বেশিরভাগ বাসা-বাড়িতে জ্বর সর্দি, শ্বাসকষ্টজনিত ও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীব্র দাবদাহে এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নারী ও শিশুসহ বয়স্করাও। ২৭ জুলাই শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে ৩১ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছে। শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভর্তি ৬ জন। হাসপাতালে দেখা যায়, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিটে বেড না পেয়ে হাসপাতালের ফ্লোরে, বরান্দায় ও বেে শুয়ে বসে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। এদের মাধ্যে ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীই বেশি। ভুক্তভোগীরা বলেন, এমন রোদ-গরম অনেক বেশি। তার সঙ্গে লোডশেডিং আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা। ফলে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ এমনিতেই থাকার যায়গা নাই।
তার ওপর নোংড়া পরিবেশ, থাকে না বিদ্যুৎও। নিরুপায় হয়ে থাকতে হচ্ছে। চিকিৎসা পেলেও বেশির ভাগ ঔষধ ক্রয় করকে হয় বাহির থেকে। যে কোন টেস্ট করাতে হলে তা বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে বেশি দামে করাতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে এসে কোন লাভ নাই। হাসপাতালে শুধু হয়রানি। গাইবান্ধা জনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আসিফ উর রহমান বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে হাসপাতালে ৩০০ জনেরও বেশি ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। শ্বাসকষ্টের রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন শতাধিক। ডাক্তার সংকট থেকে শুরু করে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডায়রিয়া থেকে বাঁচতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি বেশি বেশি তরল খাবার ও স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকগণ।















