০২:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটে ২ বছরেও চালু হয়নি আইসিইউ ইউনিট 

প্রস্তুত করার ২ বছর পরও চালু হয়নি জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নতুন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। কর্তৃপক্ষের দাবি‌, শুধুমাত্র ৬ জন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক, ১০ জন ওয়ার্ড বয় ও আয়ার অভাবে এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সব যন্ত্রপাতি থাকার পরও অতিব জরুরি এ ইউনিটটি মুমূর্ষু রোগীদের কোনো কাজে আসছে না।
জানা যায়, করোনা পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ৪ তলার একটি স্টোর রুমে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট প্রস্তুত করা হয়। ওয়ার্ডটি প্রস্তুত করতে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ সহযোগীতা করলেও প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল।
এরপর দেখতে দেখতে ২ বছর পার হলেও সেটি আর চালু হয়নি। ফলে স্বল্প খরচে সরকারিভাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে পারছে না এই জেলার বাসিন্দারা।
আরাফাত নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘হাসপাতালে স্বল্প পরিসরে যে আইসিইউ ইউনিটটি স্থাপন করা হয়েছে, সেটি দ্রুত চালু করলে জয়পুরহাটসহ আশপাশের জেলার মানুষও স্বল্প খরচে বিশেষায়িত এ সেবাটি পাবে।’
ভারত বাংলাদেশ যুব মৈত্রী জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ‘করোনার সময় আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি, আইসিইউ কতটা জরুরি। জয়পুরহাটবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালে কোনো রকম একটি আইসিইউ ইউনিট প্রস্তুত করা হলেও তার সেবা এখনো মানুষ পাচ্ছে না। এতে অসংখ্য মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এটি চালু করা হোক।’
সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের জয়পুরহাট জেলা শাখার সভাপতি নূর ই আলম হোসেন বলেন- ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অনেক রোগী আইসিইউ সেবার অভাবে মারা যাচ্ছেন। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা জেলার বাইরে রোগী নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অনেকে আবার পথিমধ্যেই মারা যাচ্ছেন। জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট  জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটটি চালু হলে এই অবস্থার উত্তোরণ হতো।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল জানান, এই ইউনিটটির জন্য ১৬ জন নার্সকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র ৬ জন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক, ১০ জন ওয়ার্ড বয় ও আয়ার অভাবে চতুর্থ তলায় নতুন ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত সংকট কেটে যাবে।
উল্লেখ্য: জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নতুন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ওয়ার্ডটি প্রস্তুত করতে ব্যায় হয়েছে  প্রায় সোয়া ১ কোটি।

জয়পুরহাটে ২ বছরেও চালু হয়নি আইসিইউ ইউনিট 

আপডেট সময় : ০১:৫৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অগাস্ট ২০২৪
প্রস্তুত করার ২ বছর পরও চালু হয়নি জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নতুন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)। কর্তৃপক্ষের দাবি‌, শুধুমাত্র ৬ জন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক, ১০ জন ওয়ার্ড বয় ও আয়ার অভাবে এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সব যন্ত্রপাতি থাকার পরও অতিব জরুরি এ ইউনিটটি মুমূর্ষু রোগীদের কোনো কাজে আসছে না।
জানা যায়, করোনা পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ৪ তলার একটি স্টোর রুমে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট প্রস্তুত করা হয়। ওয়ার্ডটি প্রস্তুত করতে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ সহযোগীতা করলেও প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল।
এরপর দেখতে দেখতে ২ বছর পার হলেও সেটি আর চালু হয়নি। ফলে স্বল্প খরচে সরকারিভাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে পারছে না এই জেলার বাসিন্দারা।
আরাফাত নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘হাসপাতালে স্বল্প পরিসরে যে আইসিইউ ইউনিটটি স্থাপন করা হয়েছে, সেটি দ্রুত চালু করলে জয়পুরহাটসহ আশপাশের জেলার মানুষও স্বল্প খরচে বিশেষায়িত এ সেবাটি পাবে।’
ভারত বাংলাদেশ যুব মৈত্রী জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ‘করোনার সময় আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি, আইসিইউ কতটা জরুরি। জয়পুরহাটবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালে কোনো রকম একটি আইসিইউ ইউনিট প্রস্তুত করা হলেও তার সেবা এখনো মানুষ পাচ্ছে না। এতে অসংখ্য মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এটি চালু করা হোক।’
সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের জয়পুরহাট জেলা শাখার সভাপতি নূর ই আলম হোসেন বলেন- ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অনেক রোগী আইসিইউ সেবার অভাবে মারা যাচ্ছেন। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা জেলার বাইরে রোগী নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অনেকে আবার পথিমধ্যেই মারা যাচ্ছেন। জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট  জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটটি চালু হলে এই অবস্থার উত্তোরণ হতো।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল জানান, এই ইউনিটটির জন্য ১৬ জন নার্সকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র ৬ জন অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক, ১০ জন ওয়ার্ড বয় ও আয়ার অভাবে চতুর্থ তলায় নতুন ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত সংকট কেটে যাবে।
উল্লেখ্য: জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নতুন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ওয়ার্ডটি প্রস্তুত করতে ব্যায় হয়েছে  প্রায় সোয়া ১ কোটি।